ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিআইডব্লিউটিএর সেই মাজহার থামছেন না

বিআইডব্লিউটিএর সেই মাজহার থামছেন না
×

​​​​​​​অমরেশ রায়

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ | ১২:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) ‘ভারপ্রাপ্ত সভাপতি' দাবি করা মাজহারুল ইসলাম আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। অপছন্দ হলেই অফিসের কর্মচারীকে পেটানো থেকে শুরু করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া কিংবা বদলি করতেও পিছপা হচ্ছেন না মাজহার। তাঁর এমন অপকর্মে অতিষ্ঠ বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এদিকে তাঁর অপকর্ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদেরও হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংস্থাটির তৃতীয় শ্রেণির এই কর্মচারীর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সমকালে প্রকাশিত একটি সংবাদের জের ধরে এই প্রতিবেদককেদেখে নেওয়া' মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে শায়েস্তা করার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাজহারের চাকরির মেয়াদ আছে আর কিছুদিন। কারণে সময় থাকতে থাকতে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এমন বেপরোয়া আচরণ করেছেন তিনি। তাঁর মারধর নির্যাতনের সর্বশেষ শিকার হয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর হিসাব বিভাগের অফিস সহায়ক ইসরারুল হাসান সুমন। গত ২৩ এপ্রিল ১০-১২ সন্ত্রাসী দিয়ে রাজধানীর মতিঝিলের বিআইডব্লিউটিএর প্রধান কার্যালয়ের সামনে সুমনকে মারধর নির্যাতন করা হয়। সময় তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন মাজহার। পরেআওয়ামী লীগের দোসর' আখ্যা দিয়ে তাঁকে পুলিশে দেওয়া হয়। বিএনপির এক প্রভাবশালী এমপির হস্তক্ষেপে ইসরারুল পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পেলেও এখনও চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাঁকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী জানান, বিআইডব্লিউটিএ সিবিএ বিআইডব্লিউটিএ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সহসভাপতি ইসরারুল হাসান সুমনও এই মাজহারের পক্ষের লোক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে তাঁর ওপর হামলার পরদিনই মাজহার তাঁকে সিবিএ শ্রমিক দলের পদ থেকে বহিষ্কার করেন। কথিত এই বহিষ্কারের ক্ষেত্রেও কৌশল নিয়েছেন মাজহার। পেছনের তারিখে (২২ এপ্রিল) তাঁকে বহিষ্কার করার চিঠি ইস্যু করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিনই মাজহার তাঁর সহযোগীদের নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ ভবনের তালা ভেঙে নিচতলার সিবিএ কার্যালয় দখল করে নিজেকে সংগঠনেরভারপ্রাপ্ত সভাপতি' দাবি করেন। রাতারাতি বিআইডব্লিউটিএ শ্রমিক দলেরসভাপতি বনে যান তিনি। এরপর সংস্থার প্রভাবশালী কয়েক কর্মকর্তার সহযোগিতায় মাজহার তাঁর সহযোগীরা ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন। অন্তর্বর্তী সরকারের পুরোটা সময় বদলি, নিয়োগ টেন্ডার বাণিজ্য এবং দখলবাজি চালিয়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাঁর প্রভাব আরও বেড়ে যায়। আর মাজহারের এসব অন্যায় অপকর্মের প্রতিবাদ করার কারণেই সুমনকে নির্যাতন হামলার শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সুমনের ওপর হামলার ঘটনার আগে চাঁদা দাবি করে না পাওয়ার জের ধরে গত ১৩ এপ্রিল দখল করা বিআইডব্লিউটিএ সিবিএ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে সংস্থার লিফট অপারেটর মিজানুর রহমানকে একই কায়দায় শারীরিক নির্যাতন করেন মাজহার। পরে মিজানের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাজহারের সহযোগী সংস্থারগেজপাঠক' পদে কর্মরত শফিকুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

সূত্র জানায়, গত দুই বছরে ইসরারুল, মিজান ছাড়াও মাজহার তাঁর সহযোগীদের নির্যাতন, হামলা- মামলার শিকার হয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ কর্মচারী আজিজুল ইসলাম, মজিবুর রহমান, নুরুল আলম, আক্কাস হোসেনসহ অনেকে। তাদের কাউকে কাউকে নির্যাতন ছাড়াওফ্যাসিস্টের দোসর' আখ্যা দিয়ে পুলিশে দেওয়া হয়। সংস্থার উচ্চপদস্থ প্রভাবশালী কয়েক কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় থাকায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি

মাজহারুল ইসলাম তাঁর সহযোগীদের এসব অপকর্ম বিষয়ে গত ২৪ এপ্রিল সমকালে 'নব্য শ্রমিক দল নেতাদের দাপটে অসহায় কর্মচারীরা' শীর্ষক প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। পরদিন এই প্রতিবেদককে ফোন করে নির্যাতনের শিকার কর্মচারীদের 'ফ্যাসিস্টের দোসর' আখ্যা দিয়ে প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে তাদের পক্ষ নেওয়ার' অভিযোগ আনেন। এক পর্যায়ে প্রতিবেদককেদেখে নেওয়া' এবং মামলা দিয়ে শায়েস্তা করার হুমকি দেন। এই সময় প্রতিবেদক কিছু বলতে গেলে গালাগাল করে ফোন কেটে দেন মাজহার।

জানতে চাইলে মাজহারুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে সমকালকে বলেছেন, আমি কারও ওপর কোনো নির্যাতন করিনি। ইসরারুলের ওপর মারধরের সময় ঘটনাস্থলেও ছিলাম না। অন্য কোথাওকিছু করে' মার খেয়ে এসে এখন আমার ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।

তিনি দাবি করেন, সুমনকে আগেই সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ছাড়া এটা বিএনপি এমপি শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস আমাদের বিষয়। এটি শিমুল বিশ্বাসের সঙ্গে আমরাই বুঝে নেব। বিষয়ে অন্য কারও কিছু বলার প্রয়োজন নেই।

আরও পড়ুন

×