ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

শ্রমিকবান্ধব বাজেট চেয়ে রূপরেখা দিল শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন

শ্রমিকবান্ধব বাজেট চেয়ে রূপরেখা দিল শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন
×

জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে।

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ১৯:৪৪

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য শ্রমিকবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংগঠনটির সভাপতি অ্যাডভোকেট অতিকুর রহমান প্রস্তাবিত বাজেট রূপরেখা তুলে ধরে। 

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তছলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি কবির আহাম্মেদ, গোলাম রাব্বানী ও মুজিবুর রহমান ভূইয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদক মুহিবুল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক আক্তারুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ আজহারুল ইসলাম, ট্রেড ইউনিয়ন সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক জামিল মাহমুদ, প্রচার সম্পাদক হাফিজুর রহমান, বিটিসিএল আদর্শ ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি নজরুল ইসলামসহ ওয়াসা, ডিপিডিসি, বিআরইএল ও বিভিন্ন জাতীয় ট্রেড ইউনিয়নের নেতারা।

অ্যাডভোকেট অতিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে একটি প্রাথমিক ধারণা ও রূপরেখা তুলে ধরেছি। আশা করি আগামী জাতীয় বাজেট প্রণয়নে সরকার শ্রমিকবান্ধব এই প্রস্তাবনাগুলো বিবেচনায় নেবে।’

উপস্থাপিত রূপরেখায় শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এতে মজুরিকে সাংবিধানিক অর্থনৈতিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি, জাতীয় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন, মজুরি সুরক্ষা তহবিল ও মজুরি নিশ্চয়তা বিমা চালুর প্রস্তাব রাখা হয়।

এছাড়া অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের আইনি স্বীকৃতি, নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ পরিবহন, মাতৃত্বকালীন সুবিধা ও ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের দাবি জানানো হয়।রূপরেখায় বলা হয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে বাধ্যতামূলক সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল গঠন, জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা, ঝুঁকিপূর্ণ পেশার শ্রমিকদের বিমা এবং রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন।

শিল্পাঞ্চলে রেশন ব্যবস্থা চালু, শ্রমিক হাসপাতাল স্থাপন, স্বাস্থ্যবিমা, সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প ও পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ইউনিট গঠনের দাবি জানানো হয়। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেকারত্ব বিমা, রি-স্কিলিং ও আপ-স্কিলিং প্রশিক্ষণ, শিক্ষানবিশ ভাতা, প্রবাসগামী শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর প্রস্তাবও রূপরেখায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে বাজেটকে কেবল প্রবৃদ্ধিনির্ভর না করে শ্রমিককেন্দ্রিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক করতে হবে। এজন্য ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে মোট বরাদ্দের অন্তত ১০ শতাংশ শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য বরাদ্দ রাখার আহ্বান জানানো হয়।

আরও পড়ুন

×