অ্যাপসভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুরু করতে যাচ্ছে ডিএসসিসি
ফাইল ছবি
অমিতোষ পাল
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬ | ১৬:০৯ | আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ | ১৬:২২
অ্যাপসের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ইতিমধ্যে অ্যাপসটি তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে নানামুখী পরীক্ষা–নিরীক্ষা। খুব শিগগিরই অ্যাপসভিত্তিক এই কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানা গেছে।
অ্যাপসটি কিভাবে মিলবে
যেকোনো জায়গা থেকে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপসটি ডাউনলোড করা যাবে। নাম হতে পারে ‘ডিএসসিসি স্মার্ট ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’। অ্যাপসটি ডাউনলোড করতে হলে অ্যাপসটি ওপেন করে ক্রিয়েট অ্যান অ্যাকাউন্ট বাটনে ক্লিক করতে হবে। ক্রিয়েট অ্যান অ্যাকাউন্ট পেজে যাওয়ার পর নিজের কিছু তথ্য দিয়ে ফর্মটি পূরণ করে সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। এরপর ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে অ্যাপসটির নিবন্ধন সম্পন্ন হবে।
ব্যবহার পদ্ধতি
কোথাও বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখলে নগরবাসীকে মোবাইলের মাধ্যমে সেটার ছবি তুলে অ্যাপের মাধ্যমে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। কিছু সময়ের মধ্যে অভিযোগকারীর কাছে একটি মেসেজ যাবে। কত সময়ের মধ্যে ওই বর্জ্য অপসারণ করা হবে সেই তথ্য থাকবে মেসেজে। আর বর্জ্যের ছবি তুলে অ্যাপে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেটা সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শকের কাছে প্রথমে যাবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে সংশ্লিষ্ট এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, উপপ্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এবং প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার কাছেও মেসেজ যাবে। এছাড়া সংস্থার অন্যান্য দায়িত্বশীল ও পদস্থ কর্মকর্তার কাছেও একই মেসেজ চলে যাবে। সংস্থার প্রশাসক বা মেয়রও এই অ্যাপসে যুক্ত থাকবেন। তারাও চাইলে এসব তথ্য সঙ্গে সঙ্গে দেখতে পারবেন।
নগরবাসীর অভিযোগের পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিচ্ছন্ন পরিদর্শক ওই বর্জ্য কত সময়ের মধ্যে অপসারণ করা সম্ভব হবে তার একটি সময় নির্ধারণ করে দেবেন। এমনকি কোন ব্যক্তি ওই বর্জ্য অপসারণ করতে যাবেন তার তথ্যও অভিযোগকারীর কাছে দ্রুত পৌঁছে যাবে। ওই সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারিত হলে সবার কাছে একইভাবে মেসেজ চলে যাবে। যদি সেটা না হয়, কেন হলো না সেটা সম্পর্কেও মেসেজ যাবে। আর যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কারণ ছাড়াই বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব না হয়, তাহলে অ্যাপস নিজ উদ্যোগে তাগাদা দিবে। সেই তথ্যও সবার কাছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে যাবে।
ডিএসসিসি মনে করছে, অ্যাপসের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হলে এ ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি নগরকে পরিস্কার–পরিচ্ছন্ন রাখার কাজটা সহজ হবে এবং নগরবাসীকেও এই কাজে সম্পৃক্তও করা সম্ভব হবে। এতে করে ভাল ফল মিলতে পারে।
কিন্তু কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলতে চাইছে না। তবে এ ব্যাপারে ডিএসসিসির সিস্টেম অ্যানালিস্ট আবু তৈয়ব রোকন সমকালকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা আগেভাগেই বলতে চাইছি না। তাহলে আমাদের উদ্যোগ ফাঁস হয়ে যাবে। তখন হয়তো অন্য সিটি করপোরেশন সেটা করে ফেলতে পারে। তখন আমরা পিছিয়ে পড়ব। তবে ঈদের ছুটি শেষের সপ্তাহখানেকের মধ্যেই একটি মিটিং করে এর কার্যক্রম শুরুর চিন্তা রয়েছে। এখন অ্যাপসটির নানা রকম পরীক্ষা–নিরীক্ষা চলছে। কারণ কোনো ত্রুটি থাকলে পরে সমস্যা হবে। আর এটা তো অনেকের কাছে যাবে। তাই ভাল করে পরীক্ষা হচ্ছে।
ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার সমকালকে বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা এই কাজটি শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছি। খুব শিগগিরই আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সবাইকে জানাবো। এটা করা গেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে। এছাড়া আমাদের রুটিন যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আছে সেটাও সমানতালে চলবে। এই অ্যাপসভিত্তিক বর্জ্য অপসারণের কাজ হবে বাড়তি উদ্যোগ।’
- বিষয় :
- অ্যাপসে নিবন্ধন
- নতুন কর্মসূচি
- ডিএসসিসি
