ঢাকা রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

কার্গো ভিলেজে আগুন ও পণ্যের জট ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ

কার্গো ভিলেজে আগুন ও পণ্যের জট ঠেকাতে ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ১৮:৪৫

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানো এবং পণ্যের জট নিরসনে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারসহ ২৪ ঘণ্টা কার্গো ভিলেজ খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম (রিতা)।

রোববার রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে বেবিচক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ঢাকা কাস্টমস হাউস, ঢাকা কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহবুব খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকে পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে জমে থাকা পণ্য দ্রুত খালাসের বিষয়ে আশ্বাস দেন।

এদিকে, গত শুক্রবার রাতে কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পাঁচ নিরাপত্তাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বেবিচক কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন কার্গো ভিলেজের কুরিয়ার শেডে আগুন লাগে। ঘটনার পরদিন শনিবার বেবিচকের পরিচালক (এভসেক পলিসি অ্যান্ড সার্টিফিকেশন) ইফতেখার জাহান হোসেনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের পর আগুনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বন্ধের দিনগুলোতে কার্গো ভিলেজে বারবার আগুন লাগার ঘটনা রহস্যজনক। তাদের ধারণা, এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকতে পারে। অতীতে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন হলেও দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র আরও জানায়, কার্গো ভিলেজে আমদানিপণ্যের জট কমাতে এবং দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে এর আগে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগিব সামাদ বিজিএমইএকে চিঠি দিয়েছিলেন। সেখানে পণ্য দ্রুত খালাস না হলে অগ্নিঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল। এর কিছুদিনের মধ্যেই গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে আবার আগুনের ঘটনা ঘটে। তবে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণে আনে।

বর্তমানে কার্গো ভিলেজে ১৫০ টনের বেশি কুরিয়ার পণ্য এবং প্রায় ১ হাজার ৬০০ টনের বেশি কার্গো পণ্য জমে আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা সতর্ক করে বলেন, এসব পণ্য দ্রুত খালাস না করা হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পণ্যজট কমাতে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় এবং এ সময় বিমানবন্দরে সব ধরনের বিমান ওঠানামা বন্ধ ছিল।

আরও পড়ুন

×