ঢাকা রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি লাশের রহস্য উদ্ঘাটন

তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি লাশের রহস্য উদ্ঘাটন
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ০৮:১৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর দক্ষিণখানে তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তাবন্দি অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় শনাক্ত ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিহতের নাম লোকমান সরদার। তিনি হানিট্রাপের শিকার হন। চাহিদামাফিক মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন– এস এম সালমান, আদিব ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌস মীম ও সবুজ মিয়া। 

পিবিআই জানায়, লোকমান সরদারের বাসা রাজধানীর কুড়িল এলাকায়। উবারে প্রাইভেটকার চালাতেন তিনি। গত ৩০ মে বিকেলে তিনি যাত্রীর খোঁজে বাসা থেকে বের হন। রাতে বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। খোঁজ না পেয়ে স্ত্রী ফারজানা আক্তার বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা করেন। 
এর মধ্যে ১ জুন দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ রাজাবাড়ী এলাকায় তুরাগ নদে প্লাস্টিকের বস্তাবন্দি ভাসমান একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, নির্মম নির্যাতনের পর তাঁকে হত্যা করে মরদেহ নদে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

এর পর পিবিআই ঢাকা মহানগর উত্তর ইউনিট মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে, নিহত উবার চালক লোকমানকে টঙ্গী পশ্চিম থানার পাখির বাজার থেকে হোন্ডা রোডে ডেকে নেন আসামি সালমানের কথিত স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস মীম। সেখানে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সালমান, আদিব, রাকিব, সবুজ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচজন লোকমানকে মারধর করে তাঁর কাছে মুক্তিপণ হিসেবে দুই লাখ টাকা দাবি করে। পরে এক বন্ধুর কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা এনে দু্র্বৃত্তদের দেন তিনি।
এর পর আরও টাকা দাবি করে অপহরণকারীরা। চাহিদামাফিক অর্থ না পেয়ে তাঁকে হত্যা করে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে তুরাগ নদে ফেলে দেয় তারা। পরে লোকমানের প্রাইভেটকার নিয়ে তারা আত্মগোপনে চলে যায়। এ ঘটনায় গত বুধবার অভিযান চালিয়ে সালমান, আদিব ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌস মীম ও সবুজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় নিহতের প্রাইভেটকারটি।
পিবিআইয়ের ঢাকা মহানগর উত্তরের এসআই জাকারিয়া আলম বলেন, চার আসামিকে আদালতে হাজির করার পর হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা সালমান ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে চারজনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
 

আরও পড়ুন

×