জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট
ইপিএস পরীক্ষার জন্য রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট
আছাদুজ্জামান
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৮:৫০ | আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৮:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ইলেক্ট্রো ফিজিওলজি স্টাডি (ইপিএস) করাতে রোগীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। হৃৎপিণ্ডের জটিলতা শনাক্তের গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষার জন্য দেশে সরকারি পর্যায়ে কার্যকর সেবা সীমিত থাকায় হৃদরোগীদের এই অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে। আবার জরুরি চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট হওয়ায় অনেকে বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করাচ্ছেন। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ইপিএস পরীক্ষার খরচ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা। বেসরকারি হাসপাতালে এই খরচ ৬৫ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ২০১৮ সালে একটি ইপিএস ল্যাব চালু হয়। সেখানে সপ্তাহে এক দিন এ-বিষয়ক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। ফলে দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষমাণ রোগীর তালিকা। এ ছাড়া আট বছর টানা ব্যবহারের কারণে যে কোনো সময় একমাত্র ইপিএস মেশিনটি অকেজো হওয়ার শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন ইপিএস ল্যাব স্থাপনে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আলিনগর খালপাড় এলাকার বাসিন্দা এনায়েত হোসেন তাঁর স্ত্রীকে তীব্র বুকব্যথা ও অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দনের সমস্যার কারণে গত ১১ মে এই হাসপাতালে ভর্তি করান। চিকিৎসকরা ইপিএস পরীক্ষার পরামর্শ দেন। হাসপাতাল থেকে তাঁকে ২০২৮ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সিরিয়াল দেওয়া হয়েছে। এনায়েত হোসেন বলেন, ‘আমি ভ্যানে পাঞ্জাবি বিক্রি করি। সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। এতদিন অপেক্ষা করা সম্ভব না। আবার বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করানোর সামর্থ্যও নেই।’
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের বাসিন্দা বাবুল মিয়া। স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে তিনি জানতে পারেন, দ্রুত ইপিএস পরীক্ষা করাতে হলে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে সময়মতো চিকিৎসা পেলে এত বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে চিন্তা করতে হতো না। ৯৫ হাজার টাকা জোগাড় করা আমার পক্ষে অসম্ভব।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ইলেক্ট্রো ফিজিওলজি স্টাডি (ইপিএস) হলো, হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কার্যকারিতা পরীক্ষার একটি বিশেষায়িত পদ্ধতি। বুক ধড়ফড়, অস্বাভাবিক হৃৎস্পন্দন কিংবা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার কারণ শনাক্তে এ পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের ৩৩৪ নম্বর কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিনের মতো অনেক রোগী ও স্বজন সিরিয়ালের জন্য ভিড় করছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও কর্মচারী বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
রোগী পলি বেগমের স্বজন জানান, তারা আগামী বছরের জুলাইয়ের জন্য সিরিয়াল পেয়েছেন। তাদের দাবি, কম খরচে চিকিৎসার আশায় সরকারি হাসপাতালে এলেও শেষ পর্যন্ত আর্থিক ও মানসিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা বলছেন, রোগীর সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত অন্তত একটি বা দুটি ইপিএস ল্যাব স্থাপন করা দরকার। পাশাপাশি সময়মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান বাড়ানো হলে অস্ত্রোপচারের সংখ্যা বাড়বে। এখন তারা জরুরি রোগীর জন্য অগ্রাধিকার ব্যবস্থা চালু রেখেছেন।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবু সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। নতুন আরেকটি ইপিএস মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেটি চালু করা গেলে রোগীদের অপেক্ষার সময় অনেকটা কমে আসবে।
