মিরপুরে আরেক নারীর লাশ
তিন দিনেও সাড়া মেলেনি স্বামী-সন্তানের
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৮:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানীর মিরপুরে পৈতৃক বাড়িতে সেলিনা আফরোজের লাশ উদ্ধারের তিন দিনেও তাঁর কানাডা প্রবাসী স্বামী ও সন্তানদের সাড়া পাওয়া যায়নি। শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের মাধ্যমে মৃত্যুর সংবাদটি তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
সেলিনার ভাগনি জামাই সমকালকে বলেন, ‘আমরা তাঁর মৃত্যুর খবরটি শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের জানিয়েছি। তারা সেই খবর জানিয়েছেন কানাডায়। এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেননি। আমরা অপেক্ষা করছি, হয়তো তাঁর স্বামী-সন্তানরা দেশে আসবেন।’
গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-৬ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১০ নম্বর সড়কের বাড়ি থেকে সেলিনা আফরোজের (৫৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চারতলা বাড়ির তৃতীয় তলায় একা থাকতেন তিনি। কয়েক দিন ধরে তাঁর কোনো সাড়া না পেয়ে স্বজনরা পুলিশে খবর দেন। পরে দরজা ভেঙে পাওয়া যায় তাঁর লাশ। গত বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, সেলিনা আফরোজের স্বামী মোবিনুল হক, দুই মেয়ে ও এক ছেলে কানাডায় থাকেন। ১০ বছরের বেশি আগে তিনি কানাডা থেকে ফিরে একা থাকতে শুরু করেন। স্বামী-সন্তানের সঙ্গে তাঁর তেমন যোগাযোগ ছিল না। তিনি কারও সঙ্গে খুব একটা মিশতেন না। খোঁজ নিতে গেলেও বিরক্ত হতেন বলে দাবি স্বজনের।
সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, সেলিনা আফরোজের নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়েছিল। মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। বাথরুমের পানির কলটি খোলা ছিল। বাসার ভেতর অগোছালো ও নোংরা ছিল। পুলিশের ধারণা, গোসল শেষে বাথরুম থেকে বের হওয়ার সময় পা পিছলে পড়ে মাথায় আঘাত পান তিনি। এরপর ডাইনিং স্পেসে তাঁর মৃত্যু হয়।
পল্লবী থানার ওসি হাসান বাসির সমকালকে বলেন, সেলিনা আফরোজের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে।
এর আগে রোববার রাতে মিরপুরের একই এলাকা থেকে ৭৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর চার ছেলেমেয়ের মধ্যে একজন যুগ্ম সচিব, একজন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক, একজন কানাডা প্রবাসী। আর স্কুলশিক্ষক মেয়ের বাসায় থাকতেন মা। মা কবে মারা গেছেন, তা জানাতে পারেননি মেয়ে।
- বিষয় :
- লাশ উদ্ধার
