ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

অভিমত

কূটনীতি চলছে অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতায়

কূটনীতি চলছে অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতায়
×

এম হুমায়ুন কবির

এম হুমায়ুন কবির

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ০৯:০২ | আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ | ১০:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

কূটনীতিতে অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে চালিয়েছিল, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতাতেই রয়েছে। মার্কিনিদের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকার করল। কিন্তু তার ফলোআপ দেখলাম এ সরকারের সময়। অন্যান্য বিষয় নিয়েও মার্কিনিদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ছে। এরই মধ্যে জ্বালানি ক্ষেত্রে কৌশলগত একটি সমঝোতা স্মারকও সই হয়েছে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্পর্ক এগোনোর যে ধারাটি শুরু হয়েছিল, তা বজায় রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহ দেখাচ্ছে চীন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলতি মাসে চীন সফরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও চীনের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সম্পর্ক বাড়াতে যে তৎপরতা ছিল, এখনও সেটি বজায় রয়েছে।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে কিছুটা নতুনত্ব দেখা গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন ছিল। নির্বাচনের পর সেখান থেকে ফিরে এসে একটা স্বাভাবিক সম্পর্কের জায়গায় আসতে চাচ্ছে দুপক্ষই। শুরুতে এ সম্পর্কে ইতিবাচক বিভিন্ন উপকরণ দেখা গেছে। তবে সাম্প্রতিককালে একটি ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচনী প্রচারণায় তাদের ভাষায় তথাকথিত বাংলাদেশিদের ভারত থেকে বিতাড়নের উদ্যোগের কথা বলেছে। এতে ভারত যে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আগ্রহী, সেখানে এ ধরনের রাজনীতি নেতিবাচক ধারণার জন্ম দিচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক পর্যায়ে সম্পর্কে যতটুকু উষ্ণতা ধারণা করা হচ্ছিল হবে, তাতে একটু অপেক্ষাকৃত কম গতি পেয়েছে। তবে গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে দুপক্ষই কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহের বিষয়টি ইতিবাচক।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের একটি অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তি বা পার্টনারশিপ অ্যান্ড কোঅপারেশন অ্যাগ্রিমেন্ট (পিসিএ) সই হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে এ চুক্তি অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ইইউর দিক থেকে উদ্যোগ রয়েছে সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। পাশাপাশি সম্পর্ক উষ্ণতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ফলে সার্বিক দিক বিবেচনা করলে অন্তর্বর্তী সরকারের কূটনীতিতে যে নীতিগত অবস্থান ছিল; বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে সেই ধারাবাহিকতাই দেখা যাচ্ছে। যদিও ভারতের সঙ্গে শুরুতে সম্পর্কে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের চেয়ে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেলেও, সম্পর্ক উন্নয়নে এর গতি নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

লেখক: সাবেক রাষ্ট্রদূত
 

আরও পড়ুন

×