ঢাকা রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

দেড় যুগ পর বগুড়া চেম্বারের নির্বাচন, ভোটগ্রহণ ৫ জুলাই

দেড় যুগ পর বগুড়া চেম্বারের নির্বাচন, ভোটগ্রহণ ৫ জুলাই
×

লোগো

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ২০:০৩

দীর্ঘ দেড় যুগ পর বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে সদস্যদের সরাসরি ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বগুড়া চেম্বারের সিইও মাসুদ রানা জানিয়েছেন, আগামী ৫ জুলাই সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের স্থান এখনও ঠিক করা হয়নি। মোট ভোটার ১ হাজার ৭৭ জন।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আছিয়া খাতুন বলেন, ‘আগামী ১৪ জুন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। দুই বছর মেয়াদি কমিটির সভাপতি পদে ৪ জন, ২টি সহসভাপতি পদে ৮ জন এবং ৯টি পরিচালক পদে ৩২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে।’

সর্বশেষ ২০০৭ সালে বগুড়া চেম্বারের সদস্যদের সরাসরি ভোটে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সংগঠনের সভাপতি হন ফজলুর রহমান পাইকার। ওই কমিটি থাকাকালে ২০০৯ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন বিনা ভোটে ফজলুর রহমানকে সরিয়ে সভাপতির দায়িত্ব নেন।

২০১৩ সালে মমতাজ উদ্দিনের ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মাসুদার রহমান মিলন সভাপতির পদে বসেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীবিহীন নির্বাচনে মিলনই সভাপতির পদে থাকেন।

চেম্বারের এক সময়ের অন্যতম সিনিয়র সদস্য রেজাউল হাসান রানু বলেন, ‘আমরা সব সময় নির্বাচনমুখী ছিলাম। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে মমতাজ উদ্দিন গ্রুপের পরাজয় হবে—এটা নিশ্চিত হয়ে নির্বাচন তো দূরের কথা, তারা আমাদের সদস্যপদ পর্যন্ত বাতিল করে দেয়। তখন থেকে অনেক ব্যবসায়ী চেম্বারে যাতায়াত বন্ধ রাখেন।’

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মিলনসহ তাঁর কিছু অনুসারী আত্মগোপনে গেলে চেম্বারের দায়িত্ব নেন বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ী সাইরুল ইসলাম। এরপর নির্বাচনের দাবি উঠলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত বছরের জুলাই মাসে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে চেম্বারের প্রশাসক নিয়োগ করা হয়।

পরে জেলা অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা আছিয়া খাতুনকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি আগামী ৫ জুলাই নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করে। নির্বাচনে অংশ নিতে ৩টি প্যানেলে ১২টি পদে ৪৪ জন মনোনয়নপত্র জমা দেন।

এই ভোটে বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীরা রয়েছেন আতিকুর রহমান বাদল ও হামিদুল হক চৌধুরী হিরুর নেতৃত্বাধীন প্যানেলে। সেলিম রেজা ও এরশাদুল বারীর প্যানেলে রয়েছেন জামায়াতপন্থী ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া ব্যবসায়ী নেতাদের একটি অংশ মোজাম্মেল হক লালু ও মাহমুদুর রহমান শিপনের নেতৃত্বে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

মোজাম্মেল হক লালু বলেন, ‘আমরা প্যানেলভুক্ত হয়ে নির্বাচন করব কিনা তা পরিষ্কার করা হবে ১৪ জুন মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন। এখন আমরা শুধু কয়েকজন একত্র হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি।’

চেম্বারের সভাপতি প্রার্থী শহর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সেলিম রেজা বলেন, ‘আমরা জামায়াতের এবং সাধারণ ব্যবসায়ী ছাড়া কাউকে নিইনি প্যানেলে। কিন্তু অন্য প্যানেলে আওয়ামী লীগের দোসররা রয়েছেন।’

বাদল-হিরু প্যানেলের সিনিয়র সহসভাপতি প্রার্থী জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে নয়, বিএনপি সমর্থিত ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্যানেলভুক্ত হয়ে নির্বাচন করছি। আমাদের প্যানেলে আওয়ামী লীগ বা তার দোসরদের নেওয়া হয়নি।’

আরও পড়ুন

×