বানরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ডিসির কাছে এলাকাবাসীর আবেদন
সম্প্রতি লালবাজার এলাকার জয়কালীবাড়ি দীঘির পাড় থেকে তোলা ছবি।
নাটোর সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ২০:২৩
নাটোর শহরে একটি বানরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অভিযোগ রয়েছে, গত তিন মাসে শহরের লালবাজারসহ আশপাশের এলাকায় বানরটির আক্রমণে অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১৫ জন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা গ্রহণ করেছেন।
নাটোর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাজার মহল্লার শতাধিক বাসিন্দার পক্ষে মিলন আখন্দ গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনটি জমা দেন।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, প্রায় তিন মাস আগে অন্য এলাকা থেকে একটি বানর এসে লালবাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বানরটি মহল্লার বিভিন্ন সড়কে ঘোরাফেরা করে। কখনো বাড়ির রান্নাঘর, খাবার টেবিল, হোটেল কিংবা দোকানে ঢুকে খাবার নিয়ে যায়, আবার সুযোগ পেলে মানুষের ওপরও আক্রমণ চালায়। এর ফলে এলাকাবাসী আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এবং অনেকেই সারাক্ষণ ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
লালবাজার মহল্লার বাসিন্দা কোহেলি রানী বলেন, ‘প্রায় দেড় মাস আগে একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ বানরটি এসে আমার হাতে কামড় দেয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।’
বঙ্গজল এলাকার বাসিন্দা শাহিন ইসলাম বলেন, ‘বাজারে যাওয়ার পথে মোড়ে বানরটি আমাকে আক্রমণ করে। আমার বাম হাতে কামড় বসিয়ে দেয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে টিকা নিতে হয়েছে।’
নাটোর সদর হাসপাতালের ভ্যাকসিন শাখার নার্স পারভিন আক্তার জানান, গত তিন মাসে লালবাজার ও আশপাশের এলাকা থেকে বানরের আক্রমণের শিকার হয়ে অন্তত ১৫ জন হাসপাতালে এসে টিকা নিয়েছেন।
রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘বানরকে খাবার দেওয়া বা অতিরিক্ত স্নেহ দেখানো উচিত নয়। বানরের স্বভাবই হলো বিরক্ত করলে পাল্টা বিরক্ত করা। খাবার ও মানুষের আগ্রহ না পেলে সাধারণত সে স্থান পরিবর্তন করে। লালবাজার এলাকায় ঘনবসতি ও উঁচু ভবন থাকায় দিনভর চেষ্টা করেও বানরটিকে ধরা সম্ভব হয়নি। পরে আর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।’
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবুল হায়াত বলেন, ‘পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের স্বাক্ষরিত একটি আবেদন পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- বানর
- আবেদনপত্র পেশ
- ডিসি
