ঢাকা রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

টেকনাফ

তদন্ত চলছে সন্দেহভাজন ৩৬৮ এনআইডির

তদন্ত চলছে সন্দেহভাজন ৩৬৮ এনআইডির
×

ফাইল ছবি

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ২১:৫১ | আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ | ২১:৫৬

কক্সবাজারের টেকনাফে বহু রোহিঙ্গা ভুয়া বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করছেন। এ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কার্যালয় ও প্রশাসন। সন্দেহভাজন ৩৬৮ এনআইডির বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। সরেজমিন যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে পুলিশ, গোয়েন্দাসহ বিভিন্ন সংস্থা নির্দেশনা পেয়েছে।

গত ১৭ মে ‘টেকনাফে ভুয়া এনআইডি বাণিজ্য’ শিরোনামে অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিক সমকাল। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি আমলে নিয়ে ভুয়া এনআইডি ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে কক্সবাজার জেলা নির্বাচন অফিস, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং স্থানীয় নির্বাচন অফিসে লিখিত অভিযোগ করা হয়।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সালাউদ্দীন আল-আজাদ বলেন, ‘টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ভুয়া ভোটার হওয়ার অভিযোগে শত শত এনআইডি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি। বর্তমানে ভুয়া এনআইডি সন্দেহে ৩৬৮ জনের একটি তালিকা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন কার্যালয় থেকে ভুয়া এনআইডি সন্দেহভাজনদের একটি তালিকা পেয়েছি। ইতোমধ্যে এক কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভুয়া এনআইডি তৈরির সঙ্গে জড়িত দালাল চক্রকেও শনাক্তের কাজ চলছে। কোনো প্রকৃত অপরাধী যাতে বাদ না পড়ে, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে।

টেকনাফ রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, টেকনাফ উপজেলায় টাকার বিনিময়ে অন্তত ৫০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা ভুয়া এনআইডি সংগ্রহ করেছে বলে তথ্য রয়েছে। এর পেছনে একটি শক্তিশালী ও সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে। বর্তমানে তিন শতাধিক সন্দেহভাজন এনআইডি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে, যা অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে শুধু এসব এনআইডি নয়, সব ভুয়া এনআইডি শনাক্ত করে বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে এনআইডি তৈরিতে সহায়তাকারী দালাল চক্র ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আ. আজিজ বলেন, ভুয়া এনআইডি বাতিলের বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। ইতোমধ্যে ৩৬৮ সন্দেহভাজন এনআইডিধারীর তালিকা তৈরি করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণ হলে সংশ্লিষ্টদের এনআইডি বাতিল করা হবে। পাশাপাশি ভুয়া এনআইডি তৈরির সঙ্গে জড়িত দালাল চক্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×