ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

মতবিনিময় সভায় বক্তারা

সামাজিক মাধ্যমে নারীবিদ্বেষ মোকাবিলায় প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা 

সামাজিক মাধ্যমে নারীবিদ্বেষ মোকাবিলায় প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা 
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ২২:৫৩

সামাজিক মাধ্যমে নারীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নারী সংগঠন ও চলচ্চিত্রকর্মীদের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রোববার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান ঘৃণা-বিদ্বেষ প্রচার ও সহিংসতা মোকাবিলায় চলচ্চিত্র উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তাদের আলোচনায় উঠে আসে বিষয়গুলো। রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের আনোয়ারা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেমের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। মতবিনিময় সভায় অংশ নেন চলচ্চিত্র নির্মাতা শামীম আখতার, মেহজাদ গালিব, শবনম ফেরদৌসী, ঝুমুর আসমা জুঁই, ফাহাদুল হক, শাহীনূর আখতার, চৈতালী সমাদ্দার, প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা ও প্রশিক্ষক ফরিদ আহমেদসহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রকর্মী ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিনিধিরা।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, চলচ্চিত্রে নারীর বাস্তব জীবনসংগ্রাম ও অর্জনের চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই যথাযথভাবে উঠে আসে না। চলচ্চিত্র শিল্প এখনও অনেকাংশে পুরুষকেন্দ্রিক এবং নারী নির্মাতাদের পথচলায় নানা প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান বলেও তারা মত দেন।  

বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে নারী নির্যাতনের অনেক ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়ার পরই প্রশাসনিক বা আইনি তৎপরতা দৃশ্যমান হয়। একই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং সাইবার সহিংসতার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এ অবস্থায় নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি সাইবার অপরাধের শাস্তি ও আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সামাজিক মাধ্যমকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। তিনি নারী আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে চলচ্চিত্র উদ্যোক্তাসহ সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ওপর জোর দেন।

স্বাগত বক্তব্যে মালেকা বানু বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সৃষ্টিশীলতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও নারীবান্ধব সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব। 

লিগ্যাল এইড সম্পাদক রেখা সাহা বলেন, সমাজ, পরিবার, বিনোদন মাধ্যম ও শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এখনও বিদ্যমান। তাই নারী সংগঠন ও চলচ্চিত্রকর্মীদের যৌথ উদ্যোগে সচেতনতা ও পুনঃশিক্ষণের কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। তিনি নারীর সংগ্রাম ও সাফল্যের ইতিবাচক গল্পও বেশি করে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে যে কোনো তথ্য মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ছে। এই বাস্তবতায় নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নারী আন্দোলনের আরও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

×