ঢাকা সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সাংবাদিকতা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন

প্রতিমন্ত্রী বললেন, আইনের ঊর্ধ্বে নয়

সাংবাদিকতা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন
×

সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি-ভিডিও থেকে নেওয়া

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ | ০০:৩০ | আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ | ০০:৪১

সাংবাদিকতার নামে ফ্যাসিবাদের পক্ষে বয়ান উৎপাদন করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে– তিনি এ প্রশ্ন তোলার পর বিএনপির এমপিরাও অভিযোগ জানান, সাংবাদিকতার নামে ফেসবুক-ইউটিউবে যে কেউ ভুয়া, অপতথ্য ছড়াচ্ছে; যা রোধ করা প্রয়োজন। জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সন্ত্রাসের পক্ষে কাজ করা সাংবাদিকরা আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

গতকাল রোববার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রতিমন্ত্রী এবং এমপিদের এই বক্তব্য আসে। তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের অনুপস্থিতিতে তথ্য প্রতিমন্ত্রী উত্তর দেন।

সম্পূরক প্রশ্নে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা অবশ্যই প্রয়োজন। বিগত ১৭ বছরের বৈরী পরিবেশেও অনেক পেশাদার সাংবাদিক নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের সময়ে যেসব নামধারী সাংবাদিক গুম, খুন, ভোট চুরি, ব্যাংক ডাকাতি ও গণহত্যার বৈধতা দিয়েছেন এবং এগুলোর পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করেছেন, তাদের বিষয়ে সরকার কী ভাবছে?’
হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও ‘ষড়যন্ত্রকারী’ ‘দেশদ্রোহী’ বলে প্রচার করেছে বসুন্ধরা শিল্পগোষ্ঠীর মালিকানাধীন সাংবাদমাধ্যমগুলো। বিএনপি এবং জামায়াতের নেতাকর্মীদের হত্যার পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করেছে কিছু নামধারী সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিক। তাদের আবার বিভিন্ন জায়গায় পুনর্বাসন করা হচ্ছে। তারা এখন প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করছে। মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলাকে উদযাপন করছে।

জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ‘স্পষ্ট বলতে চাই– দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে। তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, যারা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার বিপক্ষে কাজ করবে, গণতন্ত্র ধূলিসাৎ করবে বা সন্ত্রাসের পক্ষে কাজ করবে, সে যেই হোক, সে আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অপরাধী সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী বা চাকরিজীবী– যেই হোক না কেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কেউ আইনের বিপক্ষে কাজ করলে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

নেত্রকোনা-৩ আসনের এমপি রফিকুল ইসলাম হিলালী অনলাইন জুয়া ও সাইবার অপরাধ নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রসঙ্গ তোলেন। জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনলাইন ও ডিজিটাল মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য নীতিমালা হালনাগাদের কাজ চলছে।

নোয়াখালী-২ আসনের এমপি জয়নুল আবদিন ফারুকের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক মাধ্যমে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন ছড়ানো ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণে একটি টিম কাজ করছে।কক্সবাজার-৩ আসনের এমপি লুৎফুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন অনলাইন পোর্টাল ও ডিজিটাল গণমাধ্যমের অনুমোদনের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এই নীতিমালার আলোকেই ভবিষ্যতে অনলাইন মিডিয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।

মাদারীপুর-৩ আসনের এমপি আনিছুর রহমানের প্রশ্নে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে ১৯৭৪ সালে করা প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট যুগোপযোগী করে প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার জন্য আইনটি সংশোধন করার কার্যক্রম চলমান।

আরও পড়ুন

×