প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
গ্যাস–বিদ্যুতের নিশ্চয়তায় বিশেষ ব্যবস্থার অনুরোধ বিজিএমইএর
বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিজিএমইএ’র প্রতিনিধি দল। ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ২২:৩৪
তৈরি পোশাক শিল্পের সুরক্ষা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এ খাতের উদ্যোক্তা রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে শিল্পের স্বার্থে কাস্টমস বন্ড সুবিধা সহজ করা, বিমানবন্দরে স্থায়ী কার্গো শেড নির্মাণসহ আরও বেশ কিছু অনুরোধ জানান সংগঠনের নেতারা। রপ্তানিমুখী শিল্পের যাবতীয় সরকারি সেবা দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ ব্যবস্থা দ্রুত চালুর অনুরোধও জানান তারা।
বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ও উপদেষ্টা মাহদি আমিন উপস্থিত ছিলেন। বিজিএমইএর পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। উপস্থিত ছিলেন প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতিদের মধ্যে রেজোয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান, ভিদিয়া অমৃত খান, শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী প্রমূখ।
সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বিকল্প উপায়ে কারখানা চালাতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ বৃদ্ধির সার্বিক চিত্র বৈঠকে তুলে ধরেন বিজিএমইএ নেতারা। পণ্য বৈচিত্র্যকরণ, রপ্তানি খাতের সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগী সক্ষমতা বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন তারা। রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাস্টমস, ব্যাংকিং, গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ যাবতীয় সরকারি সেবা দ্রুত নিষ্পত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ ব্যবস্থা দ্রুত চালুর জোর দাবি জানান বিজিএমইএ নেতারা।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে পোশাক শিল্পের অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের সুরক্ষা, সচল কারখানাগুলোর স্থায়িত্ব নিশ্চিতকরণ, নীতিগত সহায়তা সহজীকরণ ও বন্ধ কারখানা সচল করতে সরকারের ধারাবাহিক নীতি সহায়তার আশ্বাস দেন। বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের উত্থাপিত সমস্যাগুলো পর্যালোচনা ও সমাধানে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে দেন প্রধানমন্ত্রী। বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী, অর্থ উপদেষ্টা ও বিজিএমইএ সভাপতি কমিটি সমন্বয় করবেন।
বিজিএমইএ নেতাদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে- গাজীপুরে শ্রমিক হাসপাতালের জন্য একটি খাশ জমি বরাদ্দ দেওয়া, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) সহজীকরণ, বেনাপোল বন্দরে লজিস্টিকস সহজ করার দাবি জানান। এছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি সহজ করা এবং মিথ্যা ঘোষণা রোধসহ ভারতে পোশাক রপ্তানি বাড়াতে বন্দরে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএ এর একটি যৌথ সেবা কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বাটেক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন।
- বিষয় :
- প্রধানমন্ত্রী
- বিজিএমইএ
- সচিবালয়