ঢাকা রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

ধানমন্ডিবাসীর সমস্যার কথা শুনলেন ডিএসসিসি প্রশাসক

ধানমন্ডিবাসীর সমস্যার কথা শুনলেন ডিএসসিসি প্রশাসক
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ২১:১৯

ধানমন্ডিবাসীর মুখ থেকে তাদের সমস্যার কথা শুনেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। কিছু সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কোনোটা সমাধানের জন্য সংশ্লিস্ট সংস্থাকে চিঠি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সবচেয়ে বড় দাবি ধানমন্ডি লেককে আর বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন প্রশাসক। পাশাপাশি তিনি প্রতিটি অঞ্চলে এ রকম গণশুনানি আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন।

এলাকাবাসীর সমস্যার কথা শুনতে রোববার ধানমন্ডি লেকপাড়ে রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারের পাশে গণশুনানির আয়োজন করে ডিএসসিসি। প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

গণশুনানির খবর পেয়ে কেউ আসেন বর্জ্যের অভিযোগ জানাতে। কেউবা জলাবদ্ধতার সমস্যার কথা বলেন। এছাড়া ছিল মশা, যানজট, ফুটপাত, ব্যাটারি রিকশার যন্ত্রণার অভিযোগ। এসব অভিযোগ সরাসরি ডিএসসিসি প্রশাসকের কাছে তুলেন ধরেন ধানমন্ডিবাসী।

‎অনুষ্ঠানে কয়েকজন নাগরিক ধানমন্ডি স্টাফ কোয়ার্টারের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, স্টাফ কোয়ার্টারে প্রচুর ময়লা যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় সেখানে অবহেলা করা হয়। ফলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার ঘটছে।

সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, এ বিষয়ে গণপূর্তকে চিঠি দেবেন। যেন গণপূর্ত দ্রুত একটা কার্যকর উদ্যোগ নেয়। তা না হলে ডেঙ্গুর দায়-দায়িত্ব গণপূর্ত অধিদপ্তরকে নিতে হবে।

‎গণশুনানিতে এক বাসিন্দা বাসা-বাড়ি থেকে ময়লার বিল বেশি নেওয়ার অভিযোগ জানালে প্রশাসক বলেন, ১০০ টাকার বেশি কেউ ময়লার বিল দেবেন না। ১০০ টাকার বেশি নিলে আপনারা জানাবেন। আমরা এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেব।’

হকারদের বিরুদ্ধে অলিগলিতে ময়লা-আবর্জনা ফেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আপনাদের সচেষ্ট হতে হবে। নাগরিকরা সচেতন ও সচেষ্ট হলে হকাররা ময়লা ফেলে যেতে পারবে না। ব্যাটারি রিকশার যন্ত্রণায় ধানমন্ডিবাসী অতিষ্ঠ উল্লেখ করে একাধিক নাগরিক অভিযোগ করলে প্রশাসক বলেন, এ সমস্যারও দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে। ব্যাটারি রিকশাকে রাজধানীর বাইরে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। 

‎এছাড়া গণশুনানিতে রাতে হর্ন বাজানো, গান-বাজনা, ডিশুনেট লাইন সংক্রান্ত নানা অভিযোগ তুলে ধরেন নাগরিকরা।

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, নাগরিকদের সমস্যা সিটি করপোরেশন জানতে চাচ্ছে। এর ফলে সমস্যা সমাধানে উভয় পক্ষ দায়িত্ব সম্পর্কে বুঝবে। সিটি করপোরেশনের যেমন দায়িত্ব আছে, নাগরিকেরও দায়িত্ব আছে। নগরের সমস্যা সমাধান করার জন্য এটি (গণশুনানি) নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করার দারুণ উদ্যোগ। এই গণশুনানি জনগণের প্রত্যাশা এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধন ও সেবার মান বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

‎মন্ত্রী আরও জানান, ধানমন্ডি এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, শহরের সমস্যা সমাধানে আমাদের ৫০ শতাংশ ও নাগরিকদের ৫০ শতাংশ দায়িত্ব। আমরা নাগরিকদের কথা শুনব। আমাদের কথাও তাদের শুনতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঢাকাকে বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলব।

আরও পড়ুন

×