অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি মহারাজ পরিবারের
ফাইল ছবি
বরিশাল ব্যুরো ও পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ২২:১৫
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে পিরোজপুরের আলোচিত মহারাজ পরিবারের এক সদস্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিটি এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম মিরাজ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিন পৃষ্ঠার চিঠিটি লেখেন। গত ২১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর চিঠিটি গ্রহণ করে।
জানা গেছে, মিরাজ পিরোজপুর-২ (ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী-নেছারাবাদ) আসনের সাবেক এমপি (স্বতন্ত্র) মহিউদ্দিন মহারাজের মেজ ভাই। এই মহারাজ পরিবারের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিভিন্ন উন্নয়নকাজ সম্পন্ন না করে শত শত কোটি টাকার বিল আগাম তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা ওই সময়ের বেশ আলোচিত হয়।
মহারাজ পরিবারের পক্ষে ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন মিরাজ। এ পরিবারের অন্যতম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইফতি ইটিসিএল প্রাইভেট লিমিটেডের অফিসিয়াল প্যাডে চিঠিটি লেখা হয়। মিরাজ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় পিরোজপুর জেলায় চলমান তাদের (মহারাজ পরিবার) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজগুলো বাস্তবায়নের সময়সীমা আরও এক বছর বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে চিঠিটি লেখা হয়।
জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান মিরাজ। তিনি রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ওপর আস্থা প্রকাশ করেন।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর মহারাজ পরিবারের সবাই আত্মগোপনে আছেন। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে দেওয়া চিঠির বিষয় মিরাজ কিংবা তাদের পরিবারের কারও বক্তব্য জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মহারাজ পরিবারের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা হয়েছে। গত বছর এপ্রিলে আটটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করে এক হাজার ৭৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলাগুলো করা হয়। এ ছাড়া আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে মহিউদ্দিন মহারাজ ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানকে অভিযুক্ত করে হয় তিনটি মামলা।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তৎকালীন মন্ত্রী জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন মহারাজ। এরপর বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হয়ে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে মঞ্জুকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে মহারাজ জয়ী হন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক।
- বিষয় :
- চিঠি
- প্রধানমন্ত্রী
