বড়াইগ্রামে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৬
উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সবপক্ষকে নিয়ে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
নাটোর সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ২০:৩৯
নাটোরের বড়াইগ্রামে কিশোরদের প্রেমঘটিত বিরোধকে কেন্দ্র করে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দফায় দফায় ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১৬ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
রোববার নাটোর-পাবনা মহাসড়কে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার শিবপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে শিবপুর গ্রামের ওয়াজ প্রামাণিককে (৭০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আদিল প্রামাণিক, আব্দুল বারেক প্রামাণিক, কামরুল হাসান, ইসরাইল প্রামাণিক, সজিব হোসেন, গোপালপুর কলোনি গ্রামের আব্দুল আওয়াল, রাব্বি মণ্ডল, মেহেদী হাসান (২৫), ইলিয়াস হোসেন এবং গড়মাটি কলোনি গ্রামের নিশাত আহমেদকে (৩০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে প্রেমসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে গোপালপুর মৃধাপাড়া গ্রামের আবিরের সঙ্গে শিবপুর গ্রামের কয়েকজন কিশোরের বাগ্বিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এর জেরে শুক্রবার আবির ও তার স্বজনরা শিবপুর গ্রামের সজিবকে মারধর করেন। এ সময় গড়মাটি গ্রামের ব্যবসায়ী আবু হানিফ বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করলে তাকেও মারধর করা হয়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে গড়মাটি কলোনির লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে শিবপুর বাজারে গেলে গোপালপুর কলোনি ও শিবপুর এলাকার লোকজনের সঙ্গে ত্রিমুখী সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন।
রোববার সকালে গোপালপুর, শিবপুর ও পাশের নারায়ণপুর গ্রামের লোকজন মাইকে ঘোষণা দিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শিবপুর বাজারে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা গড়মাটি গ্রামের ভ্যানচালক নিশাত আহমেদকে (৩০) পিটিয়ে আহত করে আটকে রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে।
খবর পেয়ে গড়মাটি কলোনির লোকজনও সশস্ত্র অবস্থায় মহাসড়কে অবস্থান নিলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ সময় আটক নিশাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালাম বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি মীমাংসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
