ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

বড় ভূমিকম্পে ঢাকার সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার শঙ্কা

বড় ভূমিকম্পে ঢাকার সেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার শঙ্কা
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৫ | আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ | ১০:০৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম. এ. মুহিত বলছেন, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ মেগা সিটিতে বড় ভূমিকম্প হলে শুধু জানমালের ক্ষতিই হবে না, রাজধানীকেন্দ্রিক দেশের সামগ্রিক সেবা ব্যবস্থাও ভেঙে পড়তে পারে। গতকাল সোমবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ‘দুর্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন ও নগর স্বাস্থ্য’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এম. এ. মুহিত বলেন, দেশে বিদ্যমান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ও স্থায়ী নির্দেশনায় (এসওডি) দুর্যোগকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ও বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে দ্রুত আইন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা জরুরি। 

বাংলাদেশ আরবান হেলথ নেটওয়ার্কের আয়োজনে গোলটেবিলে ইউনিসেফের চিফ অব হেলথ ডা. মালাই আহমাদজাই, ড্যাবের মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির উদাহরণ টেনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রানা প্লাজা ছিল একটি ১০তলা ভবন। সেই একটি ভবন ধসের পর আমরা দেখেছি ১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং আড়াই হাজার মানুষের আহত হওয়ার ঘটনা। আল্লাহ না করুক, ঢাকার মতো মেগা সিটিতে যদি ১০০ বা ২০০ ভবন ধসে পড়ে, তাহলে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে তা কল্পনা করা কঠিন। ঢাকা দেশের ২০ কোটি মানুষের কেন্দ্রবিন্দু। 
ভূমিকম্পে এখানকার হাসপাতালগুলো ধসে পড়তে পারে, বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে যেতে পারে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেলে উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

আইন পর্যালোচনার আহ্বান
দুর্যোগকালীন দায়িত্ব ও সমন্বয়ের আইনি কাঠামো স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে ডা. মুহিত বলেন, আমাদের যে দুর্যোগ আইন রয়েছে, তা পর্যলোচনা করা উচিত। 


আইনবিদ, জনস্বাস্থ্যবিদ ও প্রকৌশলীরা একসঙ্গে বসে যদি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তৈরি করেন, তাহলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে পারবে। তিনি দুর্যোগ-পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের জন্য স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরিরও আহ্বান জানান।


সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ডা. মুহিত বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে গাজীপুরে ‘ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ’ চালু করা হয়েছে। বন্যাপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আরও 
বেশি গবেষণা ও মাঠভিত্তিক শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন

×