ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

বকেয়া কর আদায় নিয়ে পৌরসভার সঙ্গে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বন্দ্ব

বকেয়া কর আদায় নিয়ে পৌরসভার সঙ্গে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বন্দ্ব
×

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৮:৫২

| প্রিন্ট সংস্করণ

চার বছর ধরে পৌরকর পরিশোধ করছে না জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উপাচার্য বরাবর এ পর্যন্ত ৮টি তাগিদপত্র পাঠালেও পরিশোধ হয়নি পৌরকর। গত চার বছরে বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ১৯ লাখে।
ত্রিশাল পৌরসভার তথ্যমতে, পৌরকর আরোপ ও আদায় বিধিমালা-২০১৩ এর ২০ (৩) ধারা অনুযায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭ শতাংশ হারে কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের পৌরকর ধরা হয় ২০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে রিভিউ বোর্ড চূড়ান্ত কর নির্ধারণ করে ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপনা বেড়ে যাওয়ায় ২০২২ সালের ২৩ জানুয়ারি বাৎসরিক মূল্যায়ন, ইমারত ও ভূমির ওপর ৭ শতাংশ কর, আবর্জনা অপসারণ, সড়কবাতিসহ তিন কোটি ৪৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার প্রস্তাবিত কর বিল উপাচার্য বরাবর পাঠায় পৌর কর্তৃপক্ষ। এর ১০ দিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হুমায়ুন কবির নানা সমস্যার কথা উল্লেখ করে আগের নির্ধারিত ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বার্ষিক কর বহাল রাখার অনুরোধ জানিয়ে পত্র পাঠান। পরে পৌরসভার রিভিউ বোর্ডের সিদ্ধান্তে প্রস্তাবিত বার্ষিক কর তিন কোটি ৪৬ লাখ ৭০ হাজার টাকার মধ্যে ৮৭ লাখ টাকা ধার্য করে। যার মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৯ লাখ টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০ লাখ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ৮৭ লাখ করে চার বছরে আসে তিন কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে পরিশোধ হয়েছে মাত্র ২৯ লাখ। বকেয়ার পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ১৯ লাখ টাকায়। অথচ ধার্য কর পরিশোধের জন্য ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত উপাচার্য বরাবর ৮টি তাগিদপত্র পাঠিয়েছে পৌরসভা।

বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য গত বছরের ৮ অক্টোবর কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘পৌরকর খাতে বাজেট বৃদ্ধিকরণ সংক্রান্ত ত্রিপক্ষীয় সভা’ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম। সেখানে ৪টি সিদ্ধান্ত হয়। যার প্রথমটি, ত্রিশাল পৌরসভার দাখিল করা পৌরকরের চাহিদা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে জানাবে এবং পৌরকর বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করবে কমিশন। বরাদ্দপ্রাপ্তি সাপেক্ষে বর্ধিত হারে পৌরকর পরিশোধ করবেন। দ্বিতীয়টি, অলাভজনক ও মানব সম্পদ তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখায় বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে ধার্য পৌরকর কমানোর অনুরোধও বিবেচনায় নেওয়া হয়। তৃতীয়টি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের পৌরকর বাবদ ১০ লাখ টাকার চেকটি গ্রহণ ও চেক প্রেরণপত্রে বকেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করার অনুরোধ করা হয়। চতুর্থটি, ত্রিপক্ষীয় সভার কার্যবিবরণী পৌর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মিজানুর রহমানের ভাষ্য, পৌরসভা নিজেদের মতো করে যে কর নির্ধারণ করবে তা যদি ইউজিসি অনুমোদন না দেয় তবে তো তাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব হবে না। 
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমরা পৌরসভাকে কেন কর দেব? এটা তো আমাদের মালিকানাধীন বাসাবাড়ি নয়, এটি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।’ তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, পৌরসভা এ বিশ্ববিদ্যালয়কে কী ধরনের নাগরিক সুবিধা দেয় যে তাদের পৌরকর দিতে হবে। তাদের কোনো ড্রেনেজ সুবিধা, পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধা, পানি বা সড়কবাতির সুবিধা নিচ্ছেন না তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাই ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে। পৌরসভা শুধু ট্রাক দিয়ে স্তূপ থেকে আবর্জনা নিয়ে যায়। এটুকুর জন্য এতো টাকা পৌরসভাকে দিতে হবে? অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে যারা সিটিকর, পৌরকর দেয় না।
পৌরকর দেওয়া যদি বিধিবহির্ভূত হতো তবে কেন বিগত সময়ে প্রতি বছর সাড়ে ৯ লাখ টাকা করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন? এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, সেটাই তো প্রশ্ন।
ত্রিশাল পৌরসভার প্রশাসক ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি আইন অমান্য করে, তখন বিষয়টি বিব্রতকর। যাই হোক, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের জন্য পত্র পাঠানো হবে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×