হাম সারলেও দুশ্চিন্তা কমছে না মা-বাবার
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৮:৪০
| প্রিন্ট সংস্করণ
দুই বছরের রুদ্র অসুস্থ হয়ে পড়লে শরীরে হামের লক্ষণ দেখতে পান মা সীমা আক্তার। ৮ জুন সন্তানকে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন শহরের একাডেমি কলাবাগান এলাকার এই বাসিন্দা। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়। চিকিৎসায় তা সেরে গেলেও এখনও শিশুটি ভুগছে জ্বর-সর্দিতে। পাশাপাশি রয়েছে কাশি ও পাতলা পায়খানা। গতকাল সোমবার হাসপাতালে সীমা আক্তার বলেন, হাম সারলেও দুশ্চিন্তা ছাড়েনি তাঁর। এ কারণে এখনও হাসপাতালে আছেন।
একই অবস্থায় পড়েছেন অন্য শিশুর অভিভাবকেরাও। গতকাল ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে হাম ও লক্ষণ নিয়ে ৩৪ শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। স্বজনেরা বলছেন, জ্বর, সর্দি, কাশি হলেই তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তখনই শিশুদের নিয়ে আসছেন হাসপাতালে।
ফেনী সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় গত জানুয়ারি থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৩৬১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়। ইতোমধ্যে ৩১৮ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গেছে। কোনো শিশু এখন পর্যন্ত মারা যায়নি। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৪৩ রোগীর মধ্যে ৩৪ জনই ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি। অন্যদের মধ্যে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬ জন, দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন ও ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন চিকিৎসাধীন।
ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের নাছরিন আক্তার নিশি তাঁর ছেলে ওসমান হাদিকে এই হাসপাতালে ভর্তি করেন ১১ জুন। শিশুটির জ্বর, সর্দি, কাশি, পাতলা পায়খানা ছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার নিউমোনিয়া, হাম ও ডেঙ্গু হয়েছে। একই সঙ্গে তিনটি জটিল রোগ ধরা পড়ায় নাছরিন আক্তারের দুর্ভাবনার শেষ নেই।
চার বছর বয়সী জিসান ও পাঁচ বছর বয়সী নুসাইদকে নিয়ে ১২ জুন থেকে হাসপাতালে আছেন সোনাগাজীর জাহানারা বেগম। তাঁর দু্ই সন্তানের শুরুতে জ্বর দেখা দেয়। এজন্য সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক চিকিৎসকের কাছে যান। তিনি লক্ষণ দেখে হামের সন্দেহ করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।
এই হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. নুরুল আবসার মামুন বলেন, জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল ও গায়ের মধ্যে লাল দাগ দেখা দিলেই বুঝতে হবে হাম-রুবেলা হয়েছে। তারপর পরীক্ষায় হাম-রুবেলা নিশ্চিত হলে শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখতে হবে। রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ায় তাকে বিচ্ছিন্ন করতেই হবে। এই চিকিৎসকের মতে, হাম-রুবেলা আক্রান্ত হলে ভয়ের কার আছে, কারণ রোগটি অন্যান্য রোগও সৃষ্টি করে।
ফেনীর সিভিল সার্জন ও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিমের ভাষ্য, সন্দেহজনক হাম রোগী এলেই ভর্তি করে আলাদা কর্নারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
- বিষয় :
- হাম
