ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

কালীগঞ্জে ওসি ইস্যুতে বিএনপিতে বিভক্তি

কালীগঞ্জে ওসি ইস্যুতে বিএনপিতে বিভক্তি
×

 লালমনিরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৮:৩৯ | আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ | ১০:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ সম্প্রতি কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিককে অপসারণের দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন মাত্রা পেয়েছে। এক সপ্তাহে দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। 
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একপক্ষে রয়েছেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল। অন্যপক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিগত নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত নেতা জাহাঙ্গীর আলম। রাজনৈতিক বিরোধকে আরও আলোচিত করেছে এ তথ্য যে, তারা দুজন সম্পর্কে আপন চাচাতো ভাই।

গত ৬ জুন রাতে রংপুর থেকে নাশকতার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, আদিতমারী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের ভায়রা ভাই।

অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারের পর জাহাঙ্গীর আলম ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানতে চান। এরপর থেকেই ওসির সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। পরে একই মামলায় রমজান আলী নামে আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলে তাঁকে মৎস্যজীবী দলের নেতা দাবি করে আন্দোলনে নামে আহ্বায়কপন্থিরা।

গত বৃহস্পতিবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ওসি মামলা বাণিজ্যে জড়িত এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের সুবিধা দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি করছেন। তিনি ওসির অপসারণ দাবি করে ১২ ঘণ্টার আলটিমেটামও দেন। একই দিন এবং পরে গত রোববার তুষভান্ডার এলাকায় পাল্টা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন এমপি রোকন উদ্দিনপন্থি নেতাকর্মীরা। নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামছুজ্জামান সবুজ। 

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বিগত নির্বাচনে জাহাঙ্গীর আলম ধানের শীষের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এখন তিনি ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ নেতা ও নিজের ভায়রা ভাই আজিজার রহমানকে গ্রেপ্তার করায় ওসির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়েছে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, ‘দলে কোনো বিভক্তি নেই। ওসি একজন বিএনপি নেতাকে হয়রানিমূলকভাবে গ্রেপ্তার করেছেন বলেই প্রতিবাদ করেছি। আজিজার রহমান আমার আত্মীয় হতে পারেন, কিন্তু এর সঙ্গে আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই।’

কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘পুলিশ আইন ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছে। কোনো ব্যক্তি কার আত্মীয় বা কোন রাজনৈতিক দলের, তা পুলিশের বিবেচ্য বিষয় নয়।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এমপি রোকন উদ্দিন বাবুলের মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

×