ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

‘হানিট্র্যাপে’ ফেলে ঋণ কর্মকর্তার কাছ থেকে অর্থ আদায়, গ্রেপ্তার ৫

‘হানিট্র্যাপে’ ফেলে ঋণ কর্মকর্তার কাছ থেকে অর্থ আদায়, গ্রেপ্তার ৫
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ | ১৪:২৮

রাজধানীতে ‘হানিট্র্যাপে’ ফেলে এক ঋণ কর্মকর্তার কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে সংঘবদ্ধ একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- আনোয়ার হোসেন, বদিউজ্জামান শাহীন, মরিয়ম, শাহাদাত হোসেন ও উর্মী বেগম।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপকমিশনার তরিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিতরণকারী কর্মকর্তা গত ১৫ এপ্রিল ঋণসংক্রান্ত কাজে রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীর একটি মার্কেটে যান। সেখানে এক নারী নিজেকে ঋণগ্রহীতা পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে পরিচিত হন এবং তার ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করেন। পরে কয়েক দিন মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে ওই নারী তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

ডিবির ভাষ্য, একপর্যায়ে ওই নারী বনশ্রীর ইউনিটি হাসপাতালের সামনে দেখা করার প্রস্তাব দেন। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর অপর এক নারী তাকে রিকশাযোগে খিলগাঁও এলাকার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।

তরিকুল ইসলাম বলেন, ফ্ল্যাটে প্রবেশের কিছুক্ষণ পর আরও চারজন সেখানে এসে ওই কর্মকর্তার ওপর হামলা চালান। এরপর এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে তাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ টাকা, এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ডিবির দাবি, পরে অভিযুক্তরা তার কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং তার ব্যাংক হিসাব থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নিজেদের হিসাবে স্থানান্তর করে নেন। একই সঙ্গে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। এ ঘটনায় গত ২২ জুন খিলগাঁও থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী।

উপকমিশনার জানান, মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত সবুজবাগ, বাড্ডা ও খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নয়টি মোবাইল ফোন, একটি ওয়াকিটকি এবং চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস পর্যালোচনায় একই কৌশলে আরও কয়েকজনকে ফাঁদে ফেলার এবং তাদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণের আলামত পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগী এবং চক্রটির অন্যান্য সদস্যকে শনাক্তে তদন্ত চলছে।

ডিবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

আরও পড়ুন

×