ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর ৪ বারে এনবিআরের অভিযান, বিপুল অবৈধ মদ ও পণ্য জব্দ

রাজধানীর ৪ বারে এনবিআরের অভিযান, বিপুল অবৈধ মদ ও পণ্য জব্দ
×
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০১:৪৫

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চারটি গোয়েন্দা ইউনিটের যৌথ অভিযানে রাজধানীর চারটি বার থেকে বিপুল পরিমাণ অনুমোদনহীন বিদেশি মদ ও রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া পণ্য জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত বিক্রয় গোপন করে উৎসে কর (টিডিএস), ভ্যাট ও আয়কর ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে। 

শনিবার রাতে আগারগাঁওয়ে এনবিআরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের তথ্য তুলে ধরেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভী আহম্মেদ। এ সময় অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা উপস্থিত ছিলেন। 

রিজভী আহম্মেদ বলেন, এনবিআরের ইতিহাসে এবারই প্রথম সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), কাস্টমস গোয়েন্দা, ভ্যাট গোয়েন্দা ও আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট স্থানীয় ভ্যাট কমিশনারেটকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে রাজধানীর বিভিন্ন বারে অভিযান চালিয়েছে। গুলশান, উত্তরা ও তেজগাঁওয়ের চারটি প্রতিষ্ঠানে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি বলেন, গুলশানের ফুয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৩০ বোতল অনুমোদনহীন বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। মূল রেস্তোরাঁ চত্বর থেকে একটি কাভার্ডভ্যানে করে এসব মদ বাইরে সরিয়ে নেওয়ার সময় কাস্টমস টিম গাড়িটি জব্দ করে। একই প্রতিষ্ঠান থেকে বৈধ আমদানির কাগজপত্র ও ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়া রাখা জিনসেং এবং প্রায় এক কেজি জাফরানও জব্দ করা হয়।

একই সময় উত্তরার মারগারিতা লাউঞ্জ থেকে ৬০৮ লিটার অনুমোদনহীন মদ ও লিকার জাতীয় পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয়ভাবে প্রস্তুত কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বা হান্টারের পণ্য ছিল ৩৬ লিটার। এগুলো কেনার পক্ষে যে কাগজপত্র দেখানো হয়েছে, সেগুলোও সন্দেহজনক বলে কর্মকর্তারা জানান। বাকি মদ ছিল বিদেশি এবং কাস্টমস নথিবিহীন।

রিজভী আহম্মেদ বলেন, তেজগাঁওয়ের হোটেল হলিডে ইনের বারে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, বারটির লাইসেন্স ‘হোটেল হলিডে ইন’-এর নামে নয়, অন্য একটি প্রতিষ্ঠান ‘হাবিব হোটেল’-এর নামে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই বারটি পরিচালনার তথ্যও পাওয়া যায়। এ প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানি, স্থানীয় ক্রয়, মজুত ও বিক্রয়-সংক্রান্ত সফটওয়্যারের ডিজিটাল তথ্য ও নথি জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গুলশানের রক ক্যানভাস বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট থেকে ২৯ লিটার অনুমোদনহীন ও রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া বিদেশি লিকার জব্দ করা হয়।

কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে প্রতিষ্ঠানগুলোর আমদানি ভাউচার, স্থানীয় ক্রয়ের রসিদ, লেজার ও বিক্রয়-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কাগজপত্রের তথ্যের সঙ্গে সফটওয়্যারের ডিজিটাল তথ্য মিলিয়ে প্রকৃত বিক্রয় গোপন করে টিডিএস ও ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে। তবে জব্দ করা পণ্যের চূড়ান্ত শুল্ক ও বাজারমূল্য নির্ধারণের কাজ এখনও চলছে। এইচএস কোড ও কাস্টমস ডেটাবেজে থাকা অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালুর সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে তা নির্ধারণ করা হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কর্মকর্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সাম্প্রতিক কোনো বিতর্কের কারণে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই কাস্টমস ফাঁকি ও অবৈধ বাণিজ্যের প্রমাণ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান চালানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×