বিশেষজ্ঞ মত
উৎসব থাকুক, ভালো হোক শেষটাও
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩:৫২
জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভোটের প্রচার ছিল
নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর। বিরোধীদলীয় প্রার্থীরাও সমান তালে ভোটের প্রচার
চালিয়েছেন। আজ ভোটের দিনেও সেই ধারাই অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন
বিশ্নেষকরা। নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান
জানিয়ে তারা বলেছেন, ইসি তা করলেই সম্ভব, প্রচারের দিনগুলোর মতো ভোটের
দিনেও উৎসব হবে। জয়-পরাজয় হাসিমুখে মেনে নেবেন সবাই। শেষটাও ভালো হোক,
উৎসবমুখর হোক- এটিই বিশ্নেষকদের প্রত্যাশা।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেছেন, ভোটের প্রচারের যে পরিবেশ
ছিল, তাতে তিনি আশাবাদী অনেক দিন পর ঢাকায় একটি ভালো ভোট হবে। ভোটাররা
কেন্দ্রে আসতে শঙ্কা বোধ করবেন না। তবে তাদের আস্থা ধরে রাখার দায়িত্ব
ইসিরই। রাজনৈতিক দলগুলোকেও সংযত ও দায়িত্বশীল হতে হবে। যে কোনো মূল্যে জয়ী
হওয়ার মানসিকতা বদলাতে হবে। তাহলেই উৎসবমুখর ভোট হবে। সাবেক এ নির্বাচন
কমিশনার আরও বলেছেন, 'শেষ ভালো যার, সব ভালো তার।' প্রায় মাসখানেক ধরে
উৎসবমুখর পরিবেশে দুই সিটি করপোরেশনে ভোটের প্রচার চলেছে। এ কৃতিত্ব ইসি
পেতেই পারে। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করে এ কৃতিত্ব সবাই ধরে
রাখবেন বলে প্রত্যাশা করছেন মো. শাহনেওয়াজ।
সিটি নির্বাচনে ভোটের প্রচারের পরিবেশ জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় অনেক ভালো
ছিল মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি
বলেছেন, এবার পরিবেশ ভালো থাকলেও সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নির্বাচন নিয়ে
জনগণের বিশ্বাস ভেঙে গেছে। তারা আর বিশ্বাসই করেন না, সুষ্ঠু ভোট হবে। ইসির
প্রতি তাদের আস্থা নেই। মানুষের এ আস্থাহীনতাই এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে
বড় বাধা। ইসি যদি ভোটারদের কেন্দ্রে ফেরাতে পারে, তাহলেই আবার প্রকৃত ভোট
ফিরে আসবে। তিনি সেটি প্রত্যাশা করেন।
বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ঝুঁকি ভোটারদেরই
নিতে হবে। কেন্দ্রে যেতে হবে। নিজের নাগরিকত্বের অধিকার প্রয়োগ করতে হবে।
এতে প্রত্যাশিত ভালো নির্বাচন হতে পারে। ভোটার উপস্থিতি কম থাকলে সুষ্ঠু
নির্বাচনও প্রশ্নমুক্ত হবে না।
বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, ভোটাররা যদি কেন্দ্রে না যান তবে তা হবে ইসির
প্রতি অনাস্থা থেকেই। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক অতীতের নির্বাচনগুলো যে হারে
অনিয়ম হয়েছে, এরপর আর ইসির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা থাকার কথা নয়।
বর্তমান ইসি অনেক আগেই নিজেদের বিতর্কিত করেছে। তারপরও প্রত্যাশা থাকবে
ভোটের দিনে তারা নির্বাক, নিষ্ফ্ক্রিয় থাকবেন না। 'প্রো-অ্যাকটিভ' ভূমিকা
পালন করবেন। কারও অভিযোগের অপেক্ষায় না থেকে নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে অনিয়ম দূর
করবেন।
সিটি নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক মেশিনে (ইভিএম) ভোটকেই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ
বলছেন বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে যে ২৯৪ আসনে
ব্যালটে ভোট হয়েছে, সেখানে তথ্য বিশ্নেষণ করে অনিয়ম, কারচুপি প্রমাণ করা
সম্ভব। কিন্তু যে ছয় আসনে ইভিএমে ভোট হয়েছে, সেখানে কী হয়েছে, তা জানা আর
সম্ভব নয়। ইভিএমে ইসির বক্তব্যই শেষ কথা। বাংলাদেশে ইভিএমে 'পেপার স্লিপ'
নেই। তাই ভোটার কোন প্রতীকে ভোট দিচ্ছেন, তা জানার উপায় নেই। কারচুপির
অভিযোগ উঠলে নিরীক্ষা করারও সুযোগ নেই।
একই অভিমত লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদের। তিনি সমকালকে বলেছেন, সিটি
নির্বাচনের প্রচারের ২১ দিনে ছোটখাটো যেসব সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে, বাংলাদেশের
নির্বাচনী ইতিহাস দিয়ে বিশ্নেষণ করলে, তা খুব বড় কিছু নয়। গতকাল শুক্রবার
পর্যন্ত তিনি দেখেছেন ভোটাররা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন- আদৌ সুষ্ঠু ভোট হবে কিনা,
ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন কিনা। তিনি বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনে আয়োজনে ইসির
হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা আছে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা হচ্ছে, তারা ক্ষমতা প্রয়োগ
করেন না। হাত গুটিয়ে বসে থাকেন। ইসি অনেকটা সরকারি কর্মকর্তার মতো আচরণ
করেন। সরকারি আদেশ পালনের মতো দায়িত্ব পালন করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও
বাকি কমিশনারদের বুঝতে হবে, তারা সরকারি কর্মকর্তা নন। তারা শপথ নিয়ে
সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট আয়োজনে তাদের
সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।
- বিষয় :
- বিশেষজ্ঞ মত
