ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সয়াবিন ও পাম অয়েলের আমদানি পর্যায়েও ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার

সয়াবিন ও পাম অয়েলের আমদানি পর্যায়েও ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার
×

প্রতীকী ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২২ | ০২:৩৯ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২২ | ০৫:০৬

দেশে সয়াবিন ও পাম অয়েলের আমদানি পর্যায়েও ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারে অনুমোদন দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থমন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে মঙ্গলবার দুপুরে সমকালকে জানানো হয়, পরিশোধিত ও অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের ওপর আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশের অতিরিক্ত মূল্যসংযোজন কর অব্যাহতির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ সুবিধা আমামী ৩০ জুন পর্যন্ত পাবেন ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

উল্লেখ্য এ ধরনের তেল আমদানি পর্যায়ে বর্তমানে ১৫ শতাংশ ভ্যাট চালু রয়েছে। 

এর আগে সোমবার স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় এনবিআর।

বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় গত কিছুদিন ধরেই হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আন্তর্জাতিক বাজারের দোহাই দিয়ে বিক্রেতারা দাম বাড়াতে থাকায় সরকারকে উদ্যোগী হতে হয়েছে।   

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব তপন কান্তি ঘোষ সমকালকে বলেন, ভোজ্যতেলে তিন স্তরে ভ্যাট ছিল। এর মধ্যে আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ, স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ও ব্যবসায়ী বা খুচরা বিক্রি পর্যায়ে ৫ শতাংশ। এর মধ্যে আগেই স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর মঙ্গলবার আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট ১০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংশ্নিষ্টরা আশা করছেন, এতে এই দুই ধরনের তেলের দাম কিছুটা কমবে।

দেশে বছরে ২০ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ লাখ টনই আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। আমদানি হয় প্রধানত সয়াবিন ও পাম তেল। এই দুই ধরনের তেল পরিশোধিত ও অপরিশোধিত অবস্থায় ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে আসে। বছরে প্রায় ১১ লাখ টন অপরিশোধিত পাম তেল আমদানি হয়। আর অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি হয় পাঁচ লাখ টন। এ ছাড়া ২৪ লাখ টন সয়াবিন বীজ আমদানি হয়। এসব বীজ থেকে চার লাখ টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল পাওয়া যায়। সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, টি কে গ্রুপ, বাংলাদেশ এডিবল অয়েল কোম্পানিসহ দেশের পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে দেশের বাজারে সরবরাহ করে। এই পরিশোধন ব্যবস্থাকে স্থানীয় উৎপাদন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সম্প্রতি ভোজ্যতেলের দাম কয়েক দফা বেড়েছে। সর্বশেষ গত ৭ ফেব্রুয়ারি সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৭ টাকা বাড়িয়ে বোতলজাত সয়াবিনের এক লিটার বোতলের ১৬৮ টাকা, ৫ লিটারের বোতলের দাম ৭৯৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর পাম তেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত দরে বিক্রি হলেও খোলা সয়াবিন ও পাম তেল বিক্রি হচ্ছে বেশি দামে। এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা, ৫ লিটারের বোতল বিক্রি হচ্ছে ৭৯০ থেকে ৮৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর খোলা সয়াবিন পাওয়া যাচ্ছে না। পাম তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা দরে। তবে সব ধরনের তেলের সরবরাহ কম। ব্যবসায়ীরা গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে। যদিও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বাড়তি দামের প্রস্তাবে সায় দেয়নি।

আরও পড়ুন

×