ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৬৭ বিলিয়ন ডলার

রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৬৭ বিলিয়ন ডলার
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২০ জুলাই ২০২২ | ২২:০২

চলতি অর্থবছরে দেশ থেকে ৬৭ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের পণ্য ও সেবা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা গত অর্থবছরের প্রকৃত রপ্তানির চেয়ে সাড়ে ১১ শতাংশ বেশি। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী স্থানীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের কাছাকাছি। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২২-২৩ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এর আগে সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী জানান, পণ্য রপ্তানিতে ৫৮ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা রপ্তানিতে ৯ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে সেবা রপ্তানিতে ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। বাকি ১২ বিলিয়ন ডলার আসবে অন্যান্য খাত থেকে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী আশা করেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে বর্তমানের মন্দা পরিস্থিতি না থাকলে আরও বেশি অঙ্কের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হতো। বিশ্ব অর্থনীতি উত্তরণের পথে থাকলেও আরও কিছুদিন সংকট থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব বিবেচনায় রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৫২ বিলিয়ন ডলারের। আর সেবা রপ্তানি হয়েছে ৮ বিলিয়ন ডলারের। পণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৪২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের। গত অর্থবছরে (২০২১-২২) পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৩৪ শতাংশ, যা ছিল লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে পণ্য রপ্তানিতে মোট ৪৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। অন্যদিকে সেবা রপ্তানিতে সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয়েছে ৮ বিলিয়ন ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৭ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৬ শতাংশ কম থাকলেও আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেড়েছিল। তার আগের অর্থবছরে (২০১৯-২০) কভিডের প্রভাবে রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২৬ শতাংশ পিছিয়ে ছিল। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে কমে যায় প্রায় ১৭ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য লোডশেডিং ও রেশনিংয়ের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাতে উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হবে বলে তিনি মনে করেন না। এ সিদ্ধান্ত সাময়িক। লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত মাথায় রেখেই রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী পণ্যের সরবরাহ চেইনকে প্রভাবিত করছে। এর ফলে বিভিন্ন পণ্য, বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এতে বিশ্বের উন্নত দেশে বিশেষত আমেরিকা ও ইউরোপে মূল্যস্টম্ফীতি ও বেকারত্ব বাড়ছে। আইএমএফের মতে, ২০২২ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার হবে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং আগামী বছরে তা আরও কমতে পারে। এসব বিষয় বিশ্নেষণ ও পর্যালোচনা করেই রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কভিডের প্রকোপ আবার বেড়ে যাওয়া, অর্থনীতিতে চাহিদা কমে যাওয়া এবং পশ্চিমের দেশগুলোতে তাপদাহ রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে প্রধান তিনটি ঝুঁকি বলে মনে করেন টিপু মুনশি।

মন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে প্রথমবারের মতো কোনো দেশে (যুক্তরাষ্ট্র) ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যার মধ্যে তৈরি পোশাক ৯ বিলিয়ন ডলার। নিজে একজন রপ্তানিকারক হয়ে তিনি মনে করেন, পোশাকের রপ্তানি আদেশ কমবে না। তিনি আশা করেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের রপ্তানি ৮০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। তিনি বলেন, গত অর্থবছরে কৃষিপণ্য, চামড়া, পাট ও হোম টেক্সটাইল খাতের রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে তথ্যপ্রযুক্তি, হালকা প্রকৌশলসহ ৮ থেকে ১০টি খাতের রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে রপ্তানি ২০২৫ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার হবে।

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বক্তব্য রাখেন। এ সময় ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) এএইচএম আহসান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) নুসরাত জাবীন বানুসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র কর্মকতা ও রপ্তানিকারক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×