বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিভুক্ত (এডিপি) প্রকল্পের উদ্যোগ থেকে শুরু করে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন পর্যন্ত সব প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে করা যাবে। প্রজেক্ট প্রসেসিং, অ্যাপ্রাইজাল অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (পিপিএস) সফটওয়্যার ব্যবহার করে এসব কাজ করা যাবে। এতে প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা আসবে। অর্থের অপচয় কমবে। সময় সাশ্রয় হবে।
গতকাল সোমবার ‘নিমগাছি এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে পিপিএস কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের হওয়ায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য একনেকে উত্থাপনের প্রয়োজন হয়নি। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান কম্পিউটারে বোতাম টিপে কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষে রাজধানীর শেরে বাংলানগরে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের সচিব সত্যজিৎ কর্মকার।
এতদিন সনাতনি পদ্ধতিতে প্রকল্প উপস্থাপন, যাচাই-বাছাই ও অনুমোদন করা হতো। এ প্রক্রিয়ায় বই আকারে প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) উপস্থাপন করা হয়। ডিপিপি পরিবর্তনের পর আবার পুনরায় মুদ্রণ করা হয়। এই মুদ্রণ-পুনর্মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় অনেক অর্থের অপচয় হয়। সময়ও ব্যয় হয় অনেক। প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির জন্য এ প্রক্রিয়াকেও অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় একটি বড় পদক্ষেপ। ফলে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদ উপস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের প্রসঙ্গ এনে মন্ত্রী বলেন, অপরাজিতার যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। গত ১৯ জুলাই চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের সন্ধ্যা ৭টার বুলেটিনে সংবাদ উপস্থাপনায় যুক্ত হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সংবাদ পাঠক ‘অপরাজিতা’।
প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ সময়মতো শেষ করতে হবে। গত অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতি আগের অর্থবছরের চেয়ে ৮ শতাংশ কম হয়েছে। এই কমের কারণ খুঁজে বের করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, গভীরে গিয়ে এডিপি বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এ বিষয়ে কারও গাফিলতি আছে কিনা তা বের করতে হবে। বাস্তবায়নে গতি বাড়াতে প্রকল্প অনুমোদনের মতো বাস্তবায়নেও ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার করা যায় কিনা তা ভেবে দেখতেও নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
কাজের বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ইচ্ছাকৃত ভুল ভংয়কর, আত্মঘাতী। এ ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক কাজকে কিছুতেই ছাড় দেওয়া হবে না। বরং অত্যন্ত কঠোরভাবে ধরা হবে। সরকারি নিয়মের বাইরে কোনো কাজ করা যাবে না।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে দুইজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়।
আলোচনায় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে করার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিন্তাভাবনা করে আসছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। সেদিক থেকে পিপিএস সিস্টেমের ব্যবহার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে একটা মাইলফলক। এতে সময় এবং ব্যয় সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব সত্যজিৎ কর্মকার, পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লি প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য এ কে এম ফজলুল হক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নাহিদ রশিদ প্রমুখ।