ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়ছে

ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়ছে
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২০ | ০৫:০২ | আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২০ | ০৬:৩১

করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রভাবে অভ্যন্তরীণ সম্পদ জোগানের অন্যতম উৎস ভ্যাট আহরণে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। এদিকে, ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আইন সংশোধন করে ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়ানো হচ্ছে। 

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, করোনার দুযোর্গের সময় দেশের ব্যবসায়ীরা যাতে তাদের মাসিক ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে পারেন সে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১৫ এপ্রিল বুধবার ভ্যাট রিটার্ন জমার শেষ সময়। সাধারণ ছুটি ও বিভিন্ন এলাকা লকডাউনের কারণে সব কিছু বন্ধ থাকায় ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। সময়মতো জমা দিতে না পারলে মূল ভ্যাট ও তার সঙ্গে মোটা অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে তাদের। এমননিতেই এই মহা দুর্যোগে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। তার ওপর সরকারের পাওনা রাজস্ব ও তার সঙ্গে বাড়তি জরিমানা। এ যেন মড়ার ওপর খড়াঁর ঘাঁ। এমন প্রতিকূল পরিবেশে উদ্ধিগ্ন আছেন দেশের ছোট -মাঝারিসহ সব ব্যবসায়ীরা। এ পরিস্থিতিতে তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। এরই মধ্যে এফবিসিসিআই থেকে সময় বাড়ানোর জন্য এনবিআর ও অর্থমন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

এনবিআরসহ সরকারি নীতি নির্ধারাক সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ ব্যবস্থায় ভ্যাট রিটার্নের সময় বাড়ানো হচ্ছে। এটা এক মাস হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করে ভ্যাট রিটার্নের সময় বাড়নানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে জরিমানা মাপ করা যায় কি-না সে বিষয়ে ও চিন্তাভাবনা চলছে। 

জানা যায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সারা দেশে রিটার্ন জমার জন্য ভ্যাট অফিস খোলা রাখলেও এবার জমার সংখ্যা খুবই কম। করোনার কারণে বন্ধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। হিসাব -নিকাশ করার জন্য জনবলও নেই। ফলে রিটার্ন ফরম পূরণ করে তা জমা দিতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। 

সূত্র বলেছে, গত রোববার ১২ এপ্রিল পর্যন্ত প্রচলতি প্রথায় রিটার্ন জমা পড়েছে মাত্র ৪ হাজার। অথচ ভ্যাট নিবন্ধন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার। প্রচলিত প্রথায় তথা ম্যানুয়ালের বাইরে অন-লাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও বেশির ভাগই আগের পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দেয়।

এনবিআর সূত্র বলেছে, এখন যে ভ্যাট আইন তাতে নির্ধারতি সময়ের মধ্যে বাধ্যতামূলক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাসিক ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হয়। নিয়ম হচ্ছে এক মাসের ভ্যাট রিটার্ন পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে অব্‌শ্যই জমা দিতে হয়। যদি কেউ ওই সময়ের মধ্যে না দেয়, তা হলে জরিমানা দিতে হবে। জরিমানার পরিমান হচ্ছে ছোট বড় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য এককালীন ১০ হাজার টাকা। এর সঙ্গে বিলম্ব হলে প্রতিদিনের জন্য মোট ভ্যাটের ২ শতাংশ আরও অতিরিক্ত সুদ দিতে হবে। বিষয়টি পরিষ্কার করে বলা যায়। ধরা যাক, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাসে ১ কোটি টাকা ভ্যাট দিতে হবে। বর্তমান আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় না দিলে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মূল ভ্যাটের সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। এ ছাড়া যতদিন বিলম্ব হবে ততদিন মূল ভ্যাটের অতিরিক্ত ২ শতাংশ করে সুদ গুনতে হবে।

এনবিআরের সংশিষ্ট বিষয়ে নীতি নির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, নতুন ভ্যাট আইনে জরুরি পরিস্থিতিতে সময় বাড়ানোর বিধান রাখা হয় নি। ফলে আদেশ জারি করে সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই এনবিআরের। যে কারণে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, সংসদ অধিবেশন নেই। ফলে অধ্যাদেশ জারি করে সময় বাড়াতে পারবে সরকার। পরে মূল আইনে তা সংশোধন করে যুক্ত করা হবে। 

সূত্র জানায়, সময় বাড়ানোর জন্য একটি সার সংক্ষেপ তৈরি করে তা অর্থমন্ত্রীর কাছে শিগগিরই পাঠানো হচ্ছে এনবিআর থেকে। অর্থমন্ত্রীর অনুমোদনের পর প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে এ বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি করবেন রাষ্ট্রপ্রতি।। রাষ্ট্রপতি অনুমোদনের পর তা জারি করে কার্যকর করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, মাসিক ভ্যাট রিটার্নের মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের পরিমাণসহ যাবতীয় আয়-ব্যয়ের হিসাব্‌ উল্লেখ থাকে। মাসিক রিটার্নের ভিত্তিতে ভ্যাট আদায় করা হয়। গত অর্থবছরে প্রায় ৫৬ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভ্যাটর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এ থেকে ভ্যাট আদায় হয় ৭৩ হাজার কোটি টাকা।

করোনার কারণে ভ্যাট আদায়ে য়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে তার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলা। ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেট অফিসে নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন জমা দেয় ৮ হাজার প্রতিষ্ঠান। গত দুদিনে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে জমা দিয়েছে মাত্র ৪২১ টি প্রতিষ্ঠান। অপরদিকে, অনলাইনে জমা পড়েছে ৮০০টি। 

ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনার ডক্টর মইনুল খান সমকালকে বলেন, এবারের বাস্তবতা ভিন্ন। লকডাউনের কারণে অনেকেই বাসায় বসে আছেন। কেউ গ্রামে চলে গেছেন। ফলে তার ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়া তার জন্য সম্ভব হবে না। এ পরিস্থিতিতে করোনায় ভ্যাট আহরণ করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। 

ভ্যাট অনলাইন অফিস সূত্রে জানা গেছে, অন লাইনের আওতায় ভ্যাট নিবন্ধন সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার। মার্চে অন লাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমা পড়েছে ৩৪ হাজার। এর আগের মাসে ২২ হাজার।

আরও পড়ুন

×