বিএফআইইউ প্রধানের বিষয়ে তদন্ত: প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বাড়ল চারদিন
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫ | ২১:১৯
আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এএফএম শাহীনুল ইসলামের ব্যাপারে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় চারদিন বাড়ানো হয়েছে। আজ রোববার কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন থাকলেও তা দিতে না পারায় সময় বাড়ানো হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার জেরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ আগস্ট আর্থিকপ্রতিষ্ঠান বিভাগ চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয় আর্থিকপ্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সাইদ কুতুবকে। যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামকে সদস্যসচিব এবং অন্য দুই সদস্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (তথ্যপ্রযুক্তি) মো. মতিউর রহমান।
কমিটি গঠন সংক্রান্ত অফিস আদেশে বলা হয়, ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএফআইইউ প্রধান এএফএম শাহীনুল ইসলাম সম্পর্কে আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তদন্ত করে মতামতসহ প্রতিবেদন দিতে কমিটিকে সাত কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়। সে হিসেবে আজ রোববার ছিল শেষ দিন। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি নিয়োগ পাওয়ার প্রায় সাড়ে সাত মাসের মাথায় শাহীনুল ইসলামের বিরুদ্ধে এই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। বিএফআইইউ প্রধান বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের মৌখিক নির্দেশনায় বাধ্যতামূলক ছুটিতে রয়েছেন।
জানতে চাইলে আর্থিকপ্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক সমকালকে বলেন, কমিটি আজকে প্রতিবেদন দিতে পারেনি। তাই কমিটির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় আরও চার দিন বাড়ানো হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই ইস্যুতে শাহীনুল ইসলামের ব্যাপারে গত ১৯ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ডেপুটি গভর্নর এবং দু’জন নির্বাহী পরিচালকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিকে সহায়তা করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট অন্য বিভাগের কর্মকর্তারা। সম্প্রতি শাহীনুলের একাধিক আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শাহীনুল ইসলাম এটিকে ভুয়া দাবি করলেও প্রাথমিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ভিডিও সঠিক বলে জানতে পেরেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এছাড়া বিতর্কিত পরিবহন ব্যবসায়ী এনা পরিবহনের মালিক খন্দকার এনায়েত উল্লাহর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পর সেই অ্যাকাউন্ট থেকে ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের সুযোগ দিয়েছেন এএফএম শাহীনুল ইসলাম। এক্ষেত্রে অনৈতিক কিছু হয়েছে কিনা সে বিষয়েও তদন্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
- বিষয় :
- বিএফআইইউ
