ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ইউএনডিপির আলোচনায় বাণিজ্য উপদেষ্টা

সীমিত রপ্তানি পণ্য নিয়ে দরকষাকষি করা কঠিন

সীমিত রপ্তানি পণ্য নিয়ে দরকষাকষি করা কঠিন
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:৩৫ | আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:৩৯

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দরকষাকষির মাধ্যমে বাণিজ্য সুবিধা আদায়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেছেন, সীমিত সংখ্যক রপ্তানি পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা বাংলাদেশের দরকষাকষির ক্ষমতাকে দুর্বল করে তুলছে। তাই রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য এনে কার্যকরভাবে আলোচনার দক্ষতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘বাণিজ্যবিষয়ক দরকষাকষিতে জাতীয় সক্ষমতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন  বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট।

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, আজকের দ্রুত বিকশিত বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে। সে ক্ষেত্রে অনুকূল বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করার জন্য দক্ষ আলোচনার সক্ষমতা অপরিহার্য হয়ে উঠবে। 

তিনি আরও বলেন, ‘অল্প কিছু পণ্যের ওপর নির্ভর করে বৈশ্বিক দরকষাকষি করা অত্যন্ত কঠিন। আমাদের দরকার রপ্তানি বাজারে বহুমুখিতা এবং শক্তিশালী টিম, যারা আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করতে সক্ষম হবে।’

শেখ বশিরউদ্দীন আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আলোচনার মূল ভিত্তিই ছিল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি। এ ক্ষেত্রে হয়তো আমাদের আরও ভালো প্রাপ্য ছিল। তবে যেটা পাওয়া গেছে, সেটাও একেবারে খারাপ না।’

এদিকে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ‘বাণিজ্যবিষয়ক দরকষাকষিতে অন্য দেশের সঙ্গে আমাদের আলোচনায় ঘাটতি নেই; বরং নিজেদের মধ্যে আলোচনায় ঘাটতি আছে। তাই অনেক বিষয়ে আমাদের আলোচনা শুরু হলেও শেষ হয়নি। সরকারের বেশির ভাগ কর্মকর্তার মধ্যে এখনও তথ্যভিত্তিক আলোচনার সংস্কৃতি নেই।

শিল্প মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কোনো বিষয়ে জানতে চেয়ে চিঠি পাঠালে উত্তর আসতে মাসের পর মাস সময় লাগে। তারপর ছয় মাস পর যখন উত্তর পাঠায়, তখন দেখা যায়, অপর পক্ষ সব ভুলে গেছে। একবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যমন্ত্রী আমাকে বলেছিলেন, বাংলাদেশকে দেওয়া এক চিঠির উত্তর আসার অপেক্ষায় তারা ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরু ও শেষ করে ফেলেছেন।’

বক্তব্য দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহিম খান, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক, ইউএনডিপি বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি স্টেফান লিলার, র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×