পরিসংখ্যান-সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন
তথ্য-উপাত্ত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার প্রস্তাব
.
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৪৯
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) নাম বদলে ‘স্ট্যাটিস্টিকস বাংলাদেশ’ করার সুপারিশ করেছে পরিসংখ্যান-সংক্রান্ত টাস্কফোর্স। একই সঙ্গে সংস্থার প্রধানের পদবি প্রধান পরিসংখ্যানবিদ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। টাস্কফোর্সের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, একটি কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে এই প্রধান নিয়োগ করা হবে। সারা বছরের কাজকর্মও দেখভাল করবে এই কাউন্সিল। তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো রকম প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক প্রভাব যাতে না থাকে, সে বিষয়ে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার সুপারিশও করা হয়েছে টাস্কফোর্সের খসড়া প্রতিবেদনে। তবে দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন পরিসংখ্যান কমিশন গঠনের দাবি থাকলেও সেটি আসেনি টাস্কফোর্সের সুপারিশে।
গতকাল সোমবার পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের কাছে টাস্কফোর্সের খসড়া প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ-সংক্রান্ত বৈঠকে টাস্কফোর্সের প্রধান ও গবেষণা সংস্থা পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানসহ টাস্কফোর্সের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিবিএসের পরিসংখ্যানের গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও প্রাপ্যতা পর্যালোচনায় গত ২৮ এপ্রিল আট সদস্যের এই বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।
১০৮ পৃষ্ঠার খসড়া প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগে আরও সংক্ষিপ্ত করে মাত্র ৩৮ পৃষ্ঠায় আনা হয়েছে। এই প্রতিবদেনটি যাচাই-বাছাই করবেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে খসড়া প্রস্তাবে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে চূড়ান্ত আকারে প্রকাশ করা হবে। টাস্কফোর্স ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান আইন সংশোধনেরও সুপারিশ করেছে টাস্কফোর্স।
বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা এবং পরিসংখ্যান-সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের প্রধান। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, স্বাধীন কমিশনের চেয়ে বড় কথা হচ্ছে বর্তমান বিবিএসের কাজের গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা। এ উদ্দেশ্যে বিবিএসের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা।
পরিসংখ্যান-সংক্রান্ত টাস্কফোর্স প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সাহসী, সময়োপযোগী, বাস্তবসম্মত একটি সংস্কার প্যাকেজ সংবলিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তারা।
খসড়া প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে– সাত সদস্যের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কাউন্সিল গঠন করা, যার নাম হবে ট্রাস্ট অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি কাউন্সিল অব স্ট্যাটিস্টিকস। এই কাউন্সিল প্রাতিষ্ঠানিক তত্ত্বাবধান করবে, বার্ষিক কর্মক্ষমতা ও ব্যয় নিরীক্ষা পর্যালোচনা করবে এবং প্রধান পরিসংখ্যানবিদ নিয়োগ প্রক্রিয়া তদারক করবে। কাউন্সিলের নেতৃত্ব দেবেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা।
প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা কাটাতে উইংয়ের সংখ্যা ১৬টিতে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। উপজেলা পর্যায়ে ৪৩৭টি নতুন পদ সৃষ্টি করে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ, ক্যাডার ও নন-ক্যাডার দ্বন্দ্ব নিরসনে এনক্যাডারমেন্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একটি একক ও পেশাদার ক্যারিয়ার কাঠামো তৈরি, আর্থিক দিক থেকে প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করতে বাজেটীয় স্বায়ত্তশাসন প্রদান, নিয়মিত জরিপ পরিচালনার জন্য স্থায়ী রাজস্ব তহবিল গঠন এবং জরুরিভিত্তিতে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে।
মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের উৎস, কোন কোন বাজার থেকে তথ্য নেওয়া হচ্ছে, কোন কোন পণ্য অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে এবং কীভাবে মূল্যস্ফীতি নির্ধারণ করা হচ্ছে– এসব বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। এতে বলা হয়েছে, প্রতিবছর একটি বার্ষিক পরিসংখ্যান সম্মেলন করা যেতে পারে, যেখানে নীতিনির্ধারক, গবেষক, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরিসংখ্যানবিদরা মতবিনিময় করবেন। বড় জরিপের জন্য পরামর্শক কমিটি গঠন এবং তরুণ গবেষকদের জন্য ইন্টার্নশিপ সুযোগ তৈরি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠারও প্রস্তাব করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
- বিষয় :
- নাম পরিবর্তন
