ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পাঁচ বছরে খেলনা রপ্তানি ছয় গুণ বাড়ানো সম্ভব

পাঁচ বছরে খেলনা রপ্তানি  ছয় গুণ বাড়ানো সম্ভব
×

মঙ্গলবার ডিসিসিআই আয়োজিত আলােচনা সভায় এনবিআরের সদস্য মুহাম্মদ মুবিনুল কবীর, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মার্টিন ডওসন, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বিপিজিএমইএর সভাপতি শামীম আহমেদসহ অতিথিরা - ফটাে রিলিজ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:২৭ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:৩৩

সম্ভাবনাময় খেলনাশিল্প থেকে বছরে প্রায় সাত কোটি ৭০ লাখ ডলারের রপ্তানি আয় হয়। প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা, কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো, বন্ডেড সুবিধা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও টেস্টিং সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ২০৩০ সাল নাগাদ অর্থাৎ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ রপ্তানি ৪৬ কোটি ৬৩ লাখ ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। 

মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণ: খেলনা উৎপাদন শিল্পে উদ্ভাবন এবং রপ্তানির সম্ভাবনা’ শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মুহাম্মদ মুবিনুল কবীর এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মার্টিন ডওসন বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। 

সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে খেলনা শিল্পের বৈশ্বিক বাজার ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। কিন্তু বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র সাত কোটি ৭০ লাখ ডলারের মতো। সহায়ক নীতিমালার অভাব, পণ্যের মান নিশ্চিতকরণ, অপ্রতুল অবকাঠমো, গবেষণা কার্যক্রমের অনুপস্থিতি এবং নতুন পণ্যের ডিজাইন উদ্ভাবনে পিছিয়ে থাকার কারণে এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। 
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) সভাপতি শামীম আহমেদ বলেন, প্লাস্টিক খাতে বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের মধ্যে ২৫০টি খেলনাসামগ্রী উৎপাদন করছে। এ খাতে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ কর্মরত রয়েছে। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, খেলনাসামগ্রী রপ্তানির বৈশ্বিক বাজার ১০২ বিলিয়ন ৮০ কোটি ডলার, যা ২০৩০ সালে ১৫০ বিলিয়নে পৌঁছাবে। আন্তর্জাতিক ক্রেতার অনুপস্থিতি, বিশ্ববাজারে প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতা, কাঁচামালে আমদানি নির্ভরতা ও উচ্চ শুল্ক ও সহায়ক নীতিমালার অভাবে বাংলাদেশে এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
এনবিআরের সদস্য মুহাম্মদ মুবিনুল কবীর বলেন, এলডিসি পরবর্তী সময়ে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি সম্ভাবনাময় অন্যান্য খাতে নজর দিতে হবে। এ জন্য এনবিআর সংশ্লিষ্ট নীতিমালা সহজীকরণ ও বন্ডেড সুবিধা প্রদানে কাজ করছে।  

ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মার্টিন ডওসন বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত খেলনা পণ্য রপ্তানির প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। ব্রিটিশ সরকার এ খাতে সহযোগিতা করতে বেশ আগ্রহী। বিদ্যমান নীতিমালার সংস্কার ও প্রতিবন্ধকতা নিরসন করা সম্ভব হলে এ খাতের পণ্যের রপ্তানি আরও বহুগুণ বাড়বে।     

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানের আলোচনায় অংশ নেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের পরিচালক ড. অশোক কুমার রয়, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের জয়েন্ট চিফ মামুন-উর রশিদ আসকারী, গোল্ডেন সনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেলাল আহেমদ, কাপকেক এক্সপোর্টার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াসির ওবায়েদ প্রমুখ। 

আরও পড়ুন

×