ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বস্ত্রকলে বেকার হয়েছে দুই লাখ শ্রমিক 

বস্ত্রকলে বেকার হয়েছে দুই লাখ শ্রমিক 
×

গুলশান ক্লাবে মতবিনিময় সভায় বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১০:৫৬ | আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১১:২৪

অসম প্রতিযোগিতায় গত ১৫ থেকে ২০ মাসে দেশের ৫০টি বস্ত্রকল বন্ধ হয়ে গেছে। আরও ৫০টি স্বল্প সক্ষমতায় চলছে। বস্ত্রকল বন্ধ হওয়ায় দুই লাখের বেশি শ্রমিক বেকার হয়েছেন। বস্ত্রকলের মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। 

রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত রোববার এই সভায় বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ভারত থেকে কম দামে সুতা আমদানির কারণে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে দেশের বস্ত্রশিল্প। ভারতের ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি সুতায় ৩০ সেন্ট কম দামে ডাম্পিং করছেন বাংলাদেশে। এ কারণে গত অর্থবছরে ভারতীয় সুতা আমদানি বেড়েছে ১৩৭ শতাংশ। অথচ দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোতে ১২ হাজার কোটি টাকার সুতা অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। 

কারখানা বন্ধ প্রসঙ্গে বিটিএমএর সভাপতি বলেন, ভারতীয় কম দামের সুতার কারণেই দেশের বস্ত্রকলগুলো বন্ধ হয়েছে। এসব কারখানায় ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ ছিল। নতুন করে এগুলো চালু করা কঠিন। তাঁর নিজের পাঁচটি কারখানার মধ্যে একটি বন্ধ হয়ে গেছে। আরেকটি বন্ধের পথে। বন্ধ করাও অনেক কঠিন। ব্যাংকের টাকাপয়সা বুঝিয়ে দিয়ে তারপর বন্ধ করতে হয়। এভাবে ছয় মাস চলতে থাকলে হয়তো তিনি হবেন কারখানাবিহীন বিটিএমএ সভাপতি। তিনি বলেন, ভারত একটি নীতি সিদ্ধান্ত জারি করে মাত্র তিন ঘণ্টায়। কিন্তু বাংলাদেশে বছর পার হয়ে গেলেও সিদ্ধান্ত হয় না। 

স্পিনিং খাতকে বাঁচাতে সরকারের কাছে তিন দিনের মধ্যে বিভিন্ন নীতি সহায়তা দাবি করেন বিটিএমএর সভাপতি। এর মধ্যে রয়েছে– বিভিন্ন ধরনের সুতার প্রচ্ছন্ন ও সরাসরি রপ্তানিতে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আকার বাড়ানো, তহবিল থেকে দেওয়া ঋণের ওপর সুদহার কমানো, ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো ও ঋণ পরিশোধে রেয়াতকাল বাড়ানো ইত্যাদি। 

বিটিএমএর সাবেক সভাপতি এ. মতিন চৌধুরী, মোহাম্মদ আলী খোকন এবং সংগঠনের বর্তমান পরিচালকরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। মতিন চৌধুরী বলেন, অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে ইতোমধ্যে ৫০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আরও ৫০টি স্বল্প সক্ষমতায় চলছে। ভারতের সুতা কারখানাগুলো নগদ প্রণোদনার বিকল্প সুবিধা, উৎপাদন পর্যায়ে প্রণোদনা, জ্বালানিতে সুবিধা, জমি কেনা, যন্ত্রপাতি ক্রয়ে সুবিধাসহ নানামুখী প্রণোদনার কারণে কম মূল্যে সুতা রপ্তানি করতে সক্ষম। এই ডাম্পিং মূল্যে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে সুতা আমদানি হচ্ছে। দেশের কারখানাগুলোতে যে ধরনের সুতা তৈরির সক্ষমতা রয়েছে, সেই মানের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করেন তিনি। 

আরও পড়ুন

×