ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রমজানের আগেই এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিকের আশ্বাস বিইআরসি চেয়ারম্যানের

রমজানের আগেই এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিকের আশ্বাস বিইআরসি চেয়ারম্যানের
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ২২:১৪

পাইপলাইনের গ্যাস সংকটের মধ্যে দেশজুড়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকট। রাজধানী থেকে জেলা-উপজেলা পর্যন্ত অনেক এলাকায় সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কোথাও পাওয়া গেলেও নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি আদায় করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রমজান মাসকে সামনে রেখে এলপিজির সরবরাহ ও দাম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এ অবস্থায় রমজানের আগে এলপিজির সংকট কেটে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। তিনি বলেন, বর্তমান সংকটটি সাময়িক হলেও দীর্ঘ মেয়াদে বাজার স্থিতিশীল রাখতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিন আয়োজিত ‘এলপিজি বাজারে নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি। আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন ম্যাগাজিনের সম্পাদক মোল্লা আমজাদ হোসেন।

বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশে কত পরিমাণ এলপিজি আমদানি হচ্ছে, সে বিষয়ে আমদানিকারকদের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) কাছ থেকে পরিবেশকদের তালিকা চাওয়া হলেও অর্ধেক সদস্য তা দেননি। এতে করে বাজার পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও দাম নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। 

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি এবং বড় ক্রেতাদের আধিপত্যের কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এলপিজি আমদানি কমে গেছে।

মূল প্রবন্ধে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (আইইউবি) ভাইস চ্যান্সেলর ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, দেশে এলপিজির সংকট নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও গভীর হয়েছে। পাইপলাইনের গ্যাস না থাকায় এলপিজির ওপর নির্ভরতা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ গ্রাহক থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা ৩৫ লাখে পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, একাধিক সংস্থার নিয়ন্ত্রণ, জটিল লাইসেন্সিং ও উচ্চ ফি এলপিজি খাতের বড় বাধা। নিয়ন্ত্রণমূলক নয়, নিরাপত্তাভিত্তিক নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি এএইচএম শফিকুজ্জামান বলেন, এলপিজিকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ঘোষণা না করলে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না–এই ব্যবধান কোথায় হচ্ছে তা খুঁজে বের করা জরুরি।

লোয়াবের সভাপতি আমিনুল হক বলেন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া, উচ্চ নবায়ন ফি ও কার্গো খালাসের সীমাবদ্ধতা দূর না হলে সংকট কাটবে না। নতুন বিনিয়োগও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স অভিযোগ করেন, কখনও কখনও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা আদায় করা হয়। 

সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা জহিরউদ্দিন স্বপন বলেন, নিয়ন্ত্রণের নামে বাজারকে অকার্যকর করা উচিত নয়; জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব একেএম ফজলুল হক, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুজ্জামান সরকার, পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক আলী ইকবাল মোহাম্মদ নুরুল্লাহ, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রধান পরিদর্শক মো. আবুল হাসান, জেএমআই গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক, যমুনা স্পেস-টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেলায়েত হোসেন প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×