ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আরও ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চায় এলজিইডি

আরও ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চায় এলজিইডি
×

মেসবাহুল হক 

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬ | ০৯:০৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

চলতি অর্থবছরে গ্রামীণ সড়ক মেরামতের জন্য চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অত্যন্ত কম উল্লেখ করে অতিরিক্ত ৭০০ কোটি টাকা চেয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। সংস্থাটির হিসাবে পাকা সড়ক নেটওয়ার্কের প্রায় এক লাখ ৩২ হাজার কিলোমিটার সড়ক নিয়মিত, সময়ান্তর ও পুনর্বাসন রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হলেও বরাদ্দ রয়েছে মাত্র তিন হাজার কোটি টাকা, যা মোট চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ। বন্যা, দীর্ঘমেয়াদি অতিবৃষ্টি এবং আগের বছরের বকেয়া কাজ মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

চলতি অর্থবছরের অনুন্নয়ন বাজেটে এলজিইডির ‘মেরামত ও সংরক্ষণ’ মঞ্জুরি খাতের আওতায় ‘গ্রামীণ সড়ক’ উপখাতে অতিরিক্ত ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. বেলাল হোসেন চিঠি পাঠান। চিঠির অনুলিপি অর্থ সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। 
এ বিষয়ে এলজিইডির সহকারী প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মাদ আবুল কালাম আজাদ সমকালকে বলেন, চাহিদা অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও এ খাতে বরাদ্দ কম। কম বরাদ্দ দিয়ে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ন্যূনতম প্রয়োজন মেটাতে বাড়তি ৭০০ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। 

এলজিইডির তথ্যমতে, সংস্থার আওতায় বিভিন্ন শ্রেণির প্রায় চার লাখ ১১ হাজার কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ ৬৭ হাজার ৪০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক। প্রতিবছর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার নতুন পাকা সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে। ফলে রক্ষণাবেক্ষণের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে।
সংস্থাটি জানায়, পাকা সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে প্রায় এক লাখ ৩২ হাজার কিলোমিটার সড়ক নিয়মিত, সময়ান্তর ও পুনর্বাসন রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এ জন্য মোট ২১ হাজার কোটি টাকা চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছে। কিন্তু চলতি অর্থবছরে ‘গ্রামীণ সড়ক’ উপখাতে বরাদ্দ রয়েছে মাত্র তিন হাজার কোটি টাকা, যা নিরূপিত চাহিদার প্রায় ১৫ শতাংশ। এ বরাদ্দ দিয়ে গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা বাস্তবসম্মত নয়।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আকস্মিক বন্যায় দেশের ১১টি জেলা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হলো—ফেনী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, লক্ষ্মীপুর ও কক্সবাজার। এসব জেলায় সড়ক ও অবকাঠামো অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুনর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
এলজিইডি আরও বলেছে, ২০২৫ সালের মে মাস থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টানা সাত মাসের অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আগে এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়ক্ষতির নজির ছিল না। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকা, সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়া এবং পিচ উঠে যাওয়ার কারণে বহু সড়ক চলাচলের অনুপযোগী।
চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিবছর পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় আগের বছরের রক্ষণাবেক্ষণের ‘বকেয়া কাজ’ থেকে যাচ্ছে। নতুন সড়ক যুক্ত হওয়ার ফলে রক্ষণাবেক্ষণের আওতাও বাড়ছে। কিন্তু বরাদ্দ সেই অনুপাতে বাড়ছে না। ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে বিশেষ সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে। এর জন্য জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ খাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে, যা বিদ্যমান বরাদ্দের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
এলজিইডি মনে করছে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গ্রামীণ রাস্তাঘাটের ন্যূনতম রক্ষণাবেক্ষণ চাহিদা পূরণ এবং চলমান ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় চলতি অর্থবছরের অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় ‘গ্রামীণ সড়ক’ উপখাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ অত্যাবশ্যক। 

আরও পড়ুন

×