ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঋণ বিতরণে এক হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে বিএইচবিএফসি

ঋণ বিতরণে এক হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে বিএইচবিএফসি
×

মেসবাহুল হক

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬ | ০৭:২০ | আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ | ১২:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

আবাসন খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশনকে (বিএইচবিএফসি) এক হাজার কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি এ ঋণ সহায়তার মাধ্যমে করপোরেশনের ঋণ বিতরণ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ। 
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, বিএইচবিএফসিকে বার্ষিক ৪ শতাংশ সুদে ২০ বছর মেয়াদে এই ঋণ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর আগে বাড়তি অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে অনুরোধ জানিয়েছিল বিএইচবিএফসি।

অর্থ বিভাগের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন আদেশ, ১৯৭৩ (সংশোধিত) অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির পরিশোধিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার এখন পর্যন্ত ১১৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। বিএইচবিএফসি বর্তমানে ১২টি ঋণ পণ্যের মাধ্যমে পরিকল্পিত ও গ্রুপভিত্তিক বহুতল আবাসন নির্মাণে ঋণ দিয়ে থাকে। অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বিএইচবিএফসির ঋণের সুদের হার কম হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ঋণের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে তহবিল সংকটের কারণে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঋণ অনুমোদনের পরও প্রায় ৩৮৪ কোটি টাকা বিতরণ করা সম্ভব হয়নি। এ অবস্থায় আবাসন খাতে ঋণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং গৃহ নির্মাণে অর্থায়ন বাড়াতে করপোরেশনের অনুকূলে এই ঋণসহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। 
জানতে চাইলে বিএইচবিএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল মান্নান সমকালকে বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে এক হাজার কোটি টাকা ঋণ চেয়েছিলাম। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রস্তাব অনুমোদন করে অর্থ বিভাগে পাঠিয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে অর্থ বিভাগে প্রক্রিয়াধীন আছে। যেহেতু এটি পাঠানোর খুব বেশি দিন হয়নি, তাই অর্থ বিভাগ থেকে এখনও কোনো প্রশ্ন বা অর্থ বরাদ্দ আমাদের কাছে আসেনি।’ 

তিনি গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের বিপুল চাহিদার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে আমাদের ঋণের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো, অন্য ব্যাংক বা বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গৃহঋণের ক্ষেত্রে বর্তমানে ১৫ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছে। সেখানে আমাদের সুদের হার ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে মাত্র ১০ শতাংশ এবং দেশের অন্য স্থানে ৮ অথবা ৯ শতাংশ। এত স্বল্প খরচে ঋণের সুযোগ অন্য কোথাও নেই।’

ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতেন। বর্তমানে অন্যান্য ব্যাংকের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় তারাও আমাদের কাছে আসছেন। ফলে আমরা বর্তমানে বেশ চাপের মধ্যে আছি। এই এক হাজার কোটি টাকা পাওয়া গেলে আমাদের জন্য কাজ করা অনেক সহজ ও ভালো হবে। বাড়ি করা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। সবাই যাতে সহজে ঋণ নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিতে পারে, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
এর আগে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে দেওয়া চিঠিতে বিএইচবিএফসি জানায়, গৃহায়ন খাতে ঋণদানকারী রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর, বিশেষত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। সবার জন্য আবাসন সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৭৩টি শাখা অফিসের মাধ্যমে দেশের নগর-মহানগরের বাইরে উপজেলা ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রোথ সেন্টারগুলোতেও ঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

বিএইচবিএফসি বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে ৮ থেকে ১০ শতাংশ সুদহারে এবং সর্বোচ্চ ২৫ বছর মেয়াদে গৃহ নির্মাণ ঋণ বিতরণ করে আসছে। প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮৪৬ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর করে ৬৯৬ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়। এর বিপরীতে আদায় হয় ৭১৬ কোটি টাকা এবং শ্রেণীকৃত ঋণের হার ছিল ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ২৮৯ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর করে ৯১৬ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়। বিপরীতে আদায় হয় ৬৮৫ কোটি টাকা। শ্রেণীকৃত ঋণের হার দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর করে ৯২২ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে, বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭০৫ কোটি টাকা এবং শ্রেণীকৃত ঋণের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আবাসন খাতে ঋণের সিলিং বৃদ্ধি, নতুন নতুন ঋণপণ্য চালু এবং সহনীয় সুদের হার বজায় রাখার কারণে বিএইচবিএফসির ঋণের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু তহবিল সংকটের কারণে সাধারণ ঋণ ও সরকারি কর্মচারীদের গৃহনির্মাণ ঋণের মঞ্জুরীকৃত অর্থ বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের মুনাফা থেকে ৮৩ কোটি টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মুনাফা থেকে ৫০ কোটি টাকা ডিভিডেন্ড হিসেবে সরকারকে প্রদান করায় তহবিলের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে কর পরিশোধের পর বিএইচবিএফসি ১০৭ কোটি টাকা মুনাফা করে। পরবর্তী দুই অর্থবছরে এ মুনাফা যথাক্রমে ৯৮ কোটি ও ৯৬ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন

×