ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অংশীজন নীতি সংলাপে বক্তারা

পোশাক খাতে জলবায়ুবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর জরুরি

পোশাক খাতে জলবায়ুবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর জরুরি
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩২ | আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১১:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

চলমান জ্বালানি সংকটের মুখে তৈরি পোশাক খাতে একটি স্থির, টেকসই এবং জলবায়ুবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর পরিকল্পনা জরুরি। এ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের আরও শক্তিশালী ও বাস্তবসম্মত সহায়তা দরকার। বিষয়টি এখন শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ বাজারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর এক হােটেলে অনুষ্ঠিত এক বহুপক্ষীয় অংশীজন নীতি সংলাপে এমন সুপারিশ এসেছে। 

অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে এথিক্যাল ট্রেডিং ইনিশিয়েটিভ (ইটিআই) বাংলাদেশ এবং তৈরি পোশাক খাতের যুব ও নারী প্রতিনিধিদের জোট ওয়ার্কার–লেড ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ওয়ার্কার ক্যান)। ইটিআই বাংলাদেশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। 

অনুষ্ঠানে অংশ নেন পরিবেশ অধিদপ্তর, শ্রম অধিদপ্তর, পোশাক খাতের রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন পণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড, ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, বাণিজ্যিক ব্যাংক, শ্রম অধিকার সংগঠন, একাডেমিয়া এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি জ্বালানি নিয়ে নীতিগত পরিবর্তনের দাবি করছে। এই বাস্তবতা এখন সরকারি পরিকল্পনা, শিল্পনীতি এবং রূপান্তর সহায়তা ব্যবস্থায় প্রতিফলিত হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে সরকারের সহায়তা বাড়ানো জরুরি, যাতে কারখানাগুলো নীতিগত লক্ষ্যকে কার্যকর রূপান্তর পরিকল্পনায় রূপ দিতে পারে।

আলোচনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, ইউটিলিটি ও বিদ্যুৎসংক্রান্ত অনুমোদনের জন্য ওয়ান-স্টপ সেবা, নেট মিটারিং ও স্মার্ট গ্রিডের স্পষ্ট রূপরেখা এবং নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ কেনার কার্যকর ব্যবস্থাসহ নানা সুপারিশ করা হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্তৃপক্ষের মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থার আরও সক্রিয় ও স্বায়ত্তশাসিত ভূমিকার আহ্বান জানানো হয়।

আলোচনায় অর্থায়ন একটি বড় বিষয় হিসেবে উঠে আসে। অংশীজনরা স্বল্পসুদে ঋণ, উন্নত পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা, প্রাক-অর্থায়নের সুযোগ, ঝুঁকি ভাগাভাগির ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ধরনের পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন পণ্যের প্রসারের সুপারিশ করেন। বিশেষ করে ছোট কারখানাগুলোর জন্য সবুজ তহবিল সম্পর্কিত তথ্য সহজলভ্য করা এবং পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করার ওপর জোর দেওয়া হয়।

বিকেএমইএর পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ইমরান কাদের বলেন, সহায়ক নীতি ও নিয়ন্ত্রক পরিবেশ থাকলে উৎপাদকদের জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ওপর এত নির্ভর করতে হতো না। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকারকে উৎপাদকদের উৎসাহ দিতে হবে। 

আলোচনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পথে ভূমির স্বল্পতা, ছাদের সীমাবদ্ধতা, গ্রিড ও অবকাঠামোগত সমস্যাকে বাস্তবায়নের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বক্তারা বলেন, সরকারকে এমনভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য জমি নিশ্চিত করতে হবে যাতে জীবিকা বা কৃষিজমির ক্ষতি না হয়। প্রস্তাবনার মধ্যে ছিল সোলার জোন, যৌথ নবায়নযোগ্য শক্তি হাব এবং ক্লাস্টারভিত্তিক সমাধান। বিজিএমইএর প্রতিনিধি কামরান সাদিক বলেন, ভূমি ও অবকাঠামো সহজলভ্য হলে উৎপাদকরা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগে আরও আগ্রহী হবে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে ইটিআই বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আবিল বিন আমিন বলেন, তৈরি পোশাক খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি রূপান্তরের জন্য একটি বাস্তবসম্মত পথরেখা জরুরি, যেখানে সরকারি নীতি ও বেসরকারি বিনিয়োগের মধ্যে সমন্বয় এবং অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

ওয়ার্কার ক্যান-এর আহ্বায়ক শেহেলী আফরোজ লাভলী বলেন, ‘সবুজ রূপান্তর গুরুত্বপূর্ণ। এটি চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি শ্রমিকদের জন্য নতুন সুযোগও তৈরি করবে। আমরা চাই রূপান্তরটি শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য হোক।’

আরও পড়ুন

×