পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ শুরু করবে সরকার
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ০৭:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই ব্যারাজ নির্মাণ হলে প্রতিবেশী কোনো দেশের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কা না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ছয় দশক ধরে পড়ে থাকা এ-সংক্রান্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সায় দিয়েছেন বলে জানা গেছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি উত্থাপন করা হবে। আজ বুধবার একনেক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এতে সভাপতিত্ব করবেন।
এর আগে দুই দফা একনেকের কার্যতালিকাভুক্ত করা হলেও শেষ পর্যন্ত একনেকে প্রকল্পটি উত্থাপন করা হয়নি। সূত্র জানায়, প্রতিবেশী দেশের ক্ষতি হবে না– এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সম্মত হয়েছেন। গত সপ্তাহে প্রকল্পটির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কয়েকজন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিবেশী দেশের ক্ষতি হবে না। পাশাপাশি এটি কৃষি, নৌ চলাচল, সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্যের যে ক্ষতি হয়েছে, তা থেকে সুরক্ষা দেবে– এই বিষয়টি জানার পর প্রকল্পটির বিষয়ে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী।
পদ্মা বারাজ নির্মাণ প্রকল্পের প্রাথমিক প্রাক্কলন থেকে ব্যয় কমানো হয়েছে সর্বশেষ প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি)। প্রকল্পের দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন বাদ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আরও কিছু অংশের ব্যয় কমানো হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা। প্রাথমিক প্রাক্কলনে যা ছিল ৫০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। একনেকে অনুমোদন হলে ২০৩৩ সালের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। ব্যারাজ নির্মাণে ব্যয় জোগান দেওয়া হবে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে। আপাতত কোনো বিদেশি ঋণ নেই এ প্রকল্পে। তবে উন্নয়ন সহযোগীদের আগ্রহ দেখা গেলে পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সময় ঋণ নেওয়া হতে পারে।
সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ভিত্তিতে রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টকে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজের মাধ্যমে নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, পানি বিভাজন এবং নিম্ন প্রবাহে পানির সুষ্ঠু বণ্টন তুলনামূলক সহজ হবে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ১৯৭৫ সালে ভারত পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মাণের কারণে বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে প্রবাহ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় কৃষি, নৌ চলাচল, সুন্দরবন ও জীববৈচিত্র্যের যে ক্ষতি হয়েছে, তা থেকে এই প্রকল্প সুরক্ষা দেবে। পদ্মা নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ এবং পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলোতে প্রবাহ বাড়ানোর মাধ্যমে সেচ সহজ করা প্রকল্পের বড় উদ্দেশ্য। এর বাইরে প্রকল্পের হাইড্রো প্লান্ট থেকে প্রায় বিনা ব্যয়ে ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। ব্যারাজের ওপর দিয়ে দুই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের একটি রেলসেতু নির্মাণ হবে।
ডিপিপিতে বলা আছে, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়ন হলে শুষ্ক মৌসুমে প্রায় দুই হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে, যা হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতী ও বড়াল নদের ব্যবস্থায় প্রবাহ ফিরিয়ে আনবে। এতে লবণাক্ততা কমবে, স্বাদু পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং সুন্দরবনের প্রতিবেশ রক্ষা পাবে। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হলে কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
- বিষয় :
- পদ্মা
