ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতি কমেছে ৩৪ শতাংশ

ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতি কমেছে ৩৪ শতাংশ
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ | ১০:৫৩

অনেক দিন ধরে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি বেশ ধীর। এ কারণে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড়, নতুন ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতিও কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নতুন ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতির পরিমাণ আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে অর্থছাড় কমেছে ১০০ কোটি ডলারের মতো। 

গতকাল রোববার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, গত জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে বিদেশি ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে ২৮১ কোটি ডলারের কিছু কম। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল প্রায় ৪২৬ কোটি ডলার। 

প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থা থেকে ২৬৫ কোটি ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল প্রায় ৪২৬ কোটি ডলার। অনুদান বাবদ প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে প্রায় ১৬ কোটি ডলারের মতো। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল প্রায় ৩৬ ডলার। 

প্রসঙ্গত, সরকার বাজেটের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ ও অনুদান নেয়। এ ছাড়া বাজেট সহায়তা হিসেবেও ঋণ নিয়ে থাকে সরকার। 

ইআরডির প্রতিবেদন অনুসারে, গত ১০ মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থছাড় কমেছে ৯২ কোটি ডলার। ছাড়ের পরিমাণ নেমে এসেছে ৪২৪ কোটি ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৫১৬ কোটি ডলারেরও বেশি। ছাড় করা অর্থের মধ্যে মঞ্জুরি বাবদ এসেছে ৩৮ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪৮ কোটি ডলার। এর মধ্যে ঋণ বাবদ এসেছে ৩৮৫ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এটি ছিল ৪৮১ কোটি ডলার। অর্থাৎ ঋণ বাবদ অর্থছাড় কম হয়েছে ৯৫৪ কোটি ডলার। 

ঋণের প্রতিশ্রুতি ও ছাড় বেশ কমে গেলেও পুরোনো ঋণ পরিশোধের পরিমাণ আরও বেড়েছে। গত ১০ মাসে এ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৪৬৫ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪২৩ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে দেশীয় মুদ্রায় ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ৪৬ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪২ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। 

তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঋণের সুদ বাবদ ১০ মাসে পরিশোধ করা হয়েছে ১৬৩ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ১৫৬ কোটি ডলারের কিছু বেশি। অন্যদিকে আসল বা মূল ঋণ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৩০২ কোটি ডলারের মতো। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২৬৬ কোটি ডলার। 

গত ১০ মাসে সবচেয়ে বেশি ঋণের অর্থ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। পরিমাণ প্রায় ৮৪ কোটি ডলার। এরপর আছে রাশিয়া। দেশটি দিয়েছে প্রায় ৮৩ কোটি ডলার। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) দিয়েছে ৭১ কোটি ডলার। চীন ও ভারত ছাড় করেছে যথাক্রমে ৫৩ কোটি ডলার ও ২৫ কোটি ডলার। জাপান দিয়েছে ৪২ কোটি ডলার। 

আরও পড়ুন

×