ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ইসলামী ব্যাংক ঘিরে দিনভর উত্তেজনা, রাতে বোর্ড সভা

নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলসহ বিভিন্ন দাবি

ইসলামী ব্যাংক ঘিরে দিনভর  উত্তেজনা, রাতে বোর্ড সভা
×

ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবিতে গতকাল সোমবার ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। পরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়ে পুলিশ -সমকাল

 বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ০৮:৩৯ | আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ | ১২:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদের ছুটির পর ইসলামী ব্যাংক ঘিরে বড় ধরনের অস্থিরতা শুরু হয়েছে। নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল, আগের এমডিকে পুনর্বহালসহ বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে-বাইরে গতকাল সোমবার উত্তেজনা তৈরি হয়। সচেতন গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। একই সঙ্গে জলকামান ও টিয়ার গ্যাসের শেল ব্যবহার করে। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভা হওয়ার কথা থাকলেও আন্দোলনকারীদের কারণে তা করা যায়নি। পরে রাতে অনলাইনে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিল চেয়ে গতকাল সকালে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় সচেতন গ্রাহক ফোরাম। গ্রাহকদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আজ মঙ্গলবার তারা প্রধান কার্যালয়সহ সারাদেশে ইসলামী ব্যাংকের শাখার সামনে বিক্ষোভ পালনের ঘোষণা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গতকালের উত্তেজনা কেবল নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং এমডির পুনর্বহালের দাবিকে কেন্দ্র করে হয়নি; ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ এখানে মুখ্য বিষয়। সচেতন গ্রাহক ফোরামের কর্মসূচির পেছনে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটিতে জামায়াতপন্থিদের প্রভাব জোরালো হয়। বর্তমানে ওই পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। গত মাসে ব্যাংকটিতে চেয়ারম্যান ও এমডির পদত্যাগের ঘটনা ঘটে। সচেতন গ্রাহক ফোরাম বলছে, এমডিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। ব্যাংকটিতে সরকার আবার এস আলম গ্রুপকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। 

একসময় ইসলামী ব্যাংকের কর্তৃত্ব জামায়াতপন্থিদের হাতে ছিল। ২০১৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয় এস আলম গ্রুপের হাতে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হারানোর পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসে, নামে-বেনামে এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক থেকে ৮৫ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। যার বড় অংশই বিভিন্ন দেশে পাচার হয়েছে– এমন অভিযোগ তদন্ত করছে সরকার।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেসব ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়, তার অন্যতম ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। সোনালী ও রূপালী ব্যাংকের সাবেক এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে চেয়ারম্যান করে প্রথমে পর্ষদ গঠন করা হয়। তবে অনিয়ম-জালিয়াতিতে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর গত বছরের জুলাইতে অধ্যাপক এম জুবায়দুর রহমানকে চেয়ারম্যান করা হয়। শুরু থেকেই এ নিয়োগের বিরোধিতা করে সচেতন গ্রাহক ফোরাম। এর মধ্যে ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস গত ২৪ মে পদত্যাগ করেন জুবায়দুর রহমান। ওই দিনই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলম ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। 

খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আন্দোলনের মুখে তিনিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তা পদত্যাগে বাধ্য হন। এদিকে, ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খানও বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করেন। এর আগে গত ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে এমডিকে ৩১ মে পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায় পর্ষদ। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর গত ১৭ মার্চ ব্যাংকটিতে নিয়োগ পাওয়া জামায়াতপন্থি পরিচালক আব্দুল জলিলকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গতকাল যা ঘটেছে
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আন্দোলনকারীরা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। ব্যাংকের সামনে থেকে তাদের সরিয়ে দিতে পুলিশ অবস্থান নেয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। বিক্ষোভকারীদের দিক থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুরো দিলকুশা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে আবার তারা ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তারা অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান এস আলমের দোসর। তাঁকে নিয়োগ দেওয়ার কারণে ব্যাংকে আবার লুটপাট হবে। এ কারণে তারা কর্মসূচি দিয়েছেন। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ অযৌক্তিকভাবে বলপ্রয়োগ করেছে।

ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, এস আলমের লোকজনকে পুনর্বাসন ও বোর্ড মিটিং ছাড়াই বিধিবহির্ভূতভাবে আওয়ামী দোসর খুরশীদ আলমকে চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে পুলিশ অতর্কিতে হামলা চালিয়ে টিয়ার শেল, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে এবং ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। এতে শতাধিক গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডার আহত হন। প্রায় ৫০ জন গ্রাহক গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের উদ্ধার করে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তারা সেখানে চিকিৎসাধীন।

ইসলামী ব্যাংক ভুক্তভোগী গ্রাহক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, সরকারের একটি অংশ এস আলম গ্রুপকে ইসলামী ব্যাংকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করে আসছে। অবিলম্বে ইসলামী ব্যাংক থেকে ব্যাংক লুটেরা এস আলম গ্রুপের উত্তরসূরিদের অপসারণ করতে হবে। খুরশীদ আলমের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ বাতিল করতে হবে। ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ও মালিকদের কাছে নিয়ন্ত্রণ দিতে হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সমকালকে বলেন, আন্দোলনকারীরা ব্যাংকের প্রধান গেট অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। অফিস সময়ে গেট বন্ধ থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। এ কারণে আন্দোলনকারীদের সেখান থেকে সরে যেতে বলা হয়। বারবার অনুরোধ করার পরও তারা সরতে রাজি না হওয়ায় প্রথমে জলকামান থেকে পানি নিক্ষেপ করা হয়। তাতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়। 

আন্দোলনকারীরা দাবি করেছে, তাদের ৫০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপপুলিশ কমিশনার বলেন, ঘটনাস্থলে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ১৫-১৬ রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। এতে ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রাতেও ব্যাংকের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা আছে বলে জানান তিনি।

গতকাল সকাল থেকে ইসলামী ব্যাংকের ভেতরে-বাইরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের প্রবেশ গেটের সিঁড়ির দুই পাশে অবস্থান নিয়েছিলেন পুলিশ সদস্যরা। বিকেলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডির রুমের সামনে কিছু লোক বিক্ষোভ করছেন। তাদের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল অনলাইনে পর্ষদ বৈঠক আয়োজনের জন্য ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডিকে চাপ দিচ্ছে। কিছুক্ষণ নানা স্লোগান দেওয়ার এক পর্যায়ে জোরপূর্বক এমডির রুমের দরজা খুলে আন্দোলনকারীরা ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকরা সেখানে প্রবেশ করেন।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হুসেইন সাংবাদিকদের বলেন, প্রধান কার্যালয়ে পর্ষদ সভা হওয়ার কথা ছিল। গ্রাহকদের আন্দোলনের কারণে ব্যাংকে এসে পর্ষদ সভা করা সম্ভব হবে না দেখে অনলাইনে করার চেষ্টা করা হয়। গ্রাহকরা দাবি জানিয়েছেন, কোনো ধরনের জুম মিটিংয়ে যেন সহযোগিতা না করা হয়। তাদের দাবির প্রতি সম্মান রেখে মিটিং থেকে বিরত আছে ব্যাংক।

দরজা আটকিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের দেখিয়ে বলেন, যখনই ব্যাংকের সামনে কোনো মব হয়, উনারা এখানে আসেন। আজও কয়েক দফায় এসেছেন। অনলাইনে বৈঠক আয়োজনে কোনো পক্ষের চাপ আছে কিনা– এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চাপ থাকলে তো এত সময় বৈঠক হয়ে যেত। যদিও ইসলামী ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, অনলাইনে সভা আয়োজনের সব রকম চেষ্টা করা হয়। তবে কোনোভাবে যেন তা না করতে পারে, সে জন্য ইসলামী ব্যাংকের বোর্ডরুমে তালা ঝুলিয়ে দেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সিদ্ধান্ত বদলাবে না বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আন্দোলনের বিষয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ব্যাংকের কোনো সিদ্ধান্তই রাস্তার কোনো আন্দোলনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে না। আন্দোলনের কারণে সিদ্ধান্ত বদলও হবে না। কোনো ব্যাংকই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হতে পারে না। রাজনৈতিক পরিচয় কোনো ব্যাংকের অস্তিত্বের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বলেন, যে কোনো ইস্যুতে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির বিক্ষোভ প্রদর্শন বা মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ারও এখতিয়ার আছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক আবেগ বা চাপের ঊর্ধ্বে থেকে কেবল প্রতিষ্ঠানের জন্য যা উপযুক্ত এবং আইনগতভাবে সিদ্ধ, তাই করবে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, কোনো ব্যাংক যদি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পরিচয়ে পরিচিত হতে চায় বা সেই পরিচয়ে বড় হতে থাকে, তবে তা ওই ব্যাংকের টেকসই থাকার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের বাইরের বিভিন্ন বিক্ষোভ ও কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে মনে হচ্ছে, কোনো কোনো ব্যাংক বিশেষ কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের অঙ্গসংগঠনে পরিণত হচ্ছে। 

তিনি জানান, সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কায় ইসলামী ব্যাংকের সোমবারের বোর্ড সভা সরাসরি না করে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম বা জুমে করার অনুমতি দেওয়া হয়। ভবনের বাইরে রাস্তার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। তবে ব্যাংকের ভেতরের নিরাপত্তার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষভাবে আমলে নেয়।

মুখপাত্র আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের স্পষ্ট অবস্থান হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকেই কোনো প্রকার রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। গভর্নর ব্যাংক কর্মকর্তাদের বলেছেন, কাজ করতে গিয়ে তারা যদি কোনো রাজনৈতিক চাপের সম্মুখীন হন, তবে তা যেন সরাসরি তাঁকে জানানো হয়। 

রাতে মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পর্ষদের পাঁচজন সদস্য ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

সভায় সম্প্রতি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানের জমা দেওয়া পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হুসাইনকে দায়িত্বে বহাল রেখে ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।

তবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে কিনা– নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গ্রাহকদের দাবির প্রতি জামায়াতের সমর্থন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সামনে ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষা এবং নবনিযুক্ত বিতর্কিত চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ গ্রাহকদের পুলিশ গুলি চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহারের তারা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। গ্রাহকদের যৌক্তিক দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে জামায়াতের। 

তিনি বলেন, গ্রাহকদের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর ও যৌক্তিক। বিগত দিনে একটি নির্দিষ্ট মহলের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের ব্যাংকিং খাতে যে নজিরবিহীন লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, দেশের মানুষ তা ভুলে যায়নি। গ্রাহকরা মনে করেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর। তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখলে ব্যাংকটি আবারও ভয়াবহ লুটপাটের মুখে পড়বে এবং সাধারণ মানুষের আমানত অনিরাপদ হয়ে পড়বে। নিজের কষ্টের জমানো টাকার নিরাপত্তা চাওয়া এবং ব্যাংকের সুরক্ষায় সোচ্চার হওয়া প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, আমানতকারী ও গ্রাহকদের স্বার্থেই গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে এই আন্দোলন করছিলেন। তবে অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, পুলিশ কোনো উস্কানি ছাড়াই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিরীহ ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। জলকামান ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি চালিয়ে অনেক আমানতকারীকে মারাত্মকভাবে আহত করে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমানতকারী ও গ্রাহকদের নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা করা পুলিশের কাজ নয়। পুলিশের এই অযাচিত বলপ্রয়োগ ও দমনপীড়ন অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। অবিলম্বে হামলাকারী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অবিলম্বে অবৈধ ও দলীয়ভবে নিয়োগ করা চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল করতে হবে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নিন্দা
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের ওপর পুলিশের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ব্যাংকিং খাতে বিদ্যমান অসন্তোষ পরিস্থিতি চলতে থাকলে তা দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তিনি অবিলম্বে এ পরিস্থিতির সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সোমবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সংহতি মিলনায়তনে ঢাকা-১২ আসনের সংগঠকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেন।

 

আরও পড়ুন

×