নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের কর ১ শতাংশে নামানোর দাবি
ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ১৮:০০
নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ওপর সব ধরনের কর ও শুল্ক আগামী ১০ বছরের জন্য প্রতীকী ১ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে এই খাতের দ্রুত সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে ২৫ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ আবর্তনশীল তহবিল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই থেকে উদ্যোক্তারা ৫ শতাংশের কম সুদে ঋণ সুবিধা পাবেন।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘জ্বালানি নিরাপত্তায় নবায়নযোগ্য উৎস: চাই বাজেটের নীতিগত পরিবর্তন’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, উচ্চ কর, নীতিগত বৈপরীত্য ও অর্থায়নের সংকটের কারণে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে আমদানিনির্ভর ও ব্যয়বহুল জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে জলবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির মোট স্থাপিত সক্ষমতা মাত্র ১ হাজার ৬৭৯ মেগাওয়াট। অথচ ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় সৌর ও বায়ুশক্তি মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রপাতির ওপর ২৭ থেকে ৬১ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ কর ও শুল্ক আরোপ করা রয়েছে। বিশেষ করে সৌর প্যানেল ও ইনভার্টারের ওপর করের হার প্রায় ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ। উচ্চ করের এই বোঝার কারণে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করা হয়। এর মধ্যে আবাসিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ জনপ্রিয় করতে প্রতি কিলোওয়াটে অন্তত ২৫ হাজার টাকা ভর্তুকি দেওয়া, নারী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বাধীন পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ আর্থিক সহায়তা ইত্যাদি । একই সঙ্গে নতুন বড় প্রকল্পগুলোতে ব্যাটারি শক্তি সঞ্চয় ব্যবস্থা (বিইএসএস) বাধ্যতামূলক করা, কর্পোরেট বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (সিপিএ) চালু এবং কার্বন নির্গমন কর আরোপের সুপারিশ করেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিনির্ভর প্রকল্পের পরিবর্তে ছাদভিত্তিক, কৃষিভিত্তিক ও ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে সরকারকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এতে কৃষিজমি রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।
ক্লিনের প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানিতে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি অব্যাহত রেখে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে কৌশলগত অগ্রাধিকার না দিলে দেশ ব্যয়বহুল আমদানিনির্ভরতার ফাঁদে আটকে যাবে।
বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ছাড়া টেকসই শিল্পায়ন অসম্ভব। তাই সৌর ও বায়ুশক্তিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে কর ও শুল্ক কমানোর কোনো বিকল্প নেই। বক্তারা আসন্ন জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পক্ষে শক্তিশালী নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
- বিষয় :
- জ্বালানি খাত
