ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সার সংকট, ঝুঁকিতে খাদ্য নিরাপত্তা

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রতিবেদন

সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সার  সংকট, ঝুঁকিতে খাদ্য নিরাপত্তা
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৪৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

পারস্য উপসাগরে গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ইউরিয়া ও ফসফেট সারের সরবরাহ ভয়াবহভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ সংকটের কারণে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো সারস্বল্পতা ও উচ্চমূল্যের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। গত শুক্রবার ডব্লিউটিওর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ব্লগে এসব তথ্য দেওয়া হয়েছে। 
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সারের এই সংকট শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। সারের অভাব বা উচ্চমূল্যের কারণে ফসলের ফলন কমে গেলে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাবে। এর পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের কারণে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক সার বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধের কারণে এই প্রণালি দিয়ে সারের জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বহির্গামী সারের চালান শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে এবং এখন পর্যন্ত তা স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো বিশ্বের মোট নাইট্রোজেন সারের প্রায় ২৫ শতাংশ এবং ফসফেট সারের ১১ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে।

সংঘাতের পরপরই সারের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। বিশেষ করে ইউরিয়া সারের দাম প্রতি টনে ৪০০ ডলার থেকে একলাফে বেড়ে ৮৫০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। তবে গত জুনে ৪৫৩ ডলারে নেমে এলেও বাজারের অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। একইভাবে ফসফেট সারের (ডিএপি) দামও প্রতি টনে ৫৮০ ডলার থেকে বেড়ে ৭৭০ ডলারে পৌঁছেছিল ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তালিকায় রয়েছে ভারত, থাইল্যান্ড, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলো। ভারত তার চাহিদার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নাইট্রোজেন সার এই অঞ্চল থেকে আমদানি করে থাকে। এ ছাড়া আফ্রিকার মালাউই, মোজাম্বিক, কেনিয়া ও তানজানিয়ার মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোও তাদের সারের জন্য এই অঞ্চলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে সেখানে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে [১০]।
রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যনীতি 
সারের ঘাটতি মোকাবিলায় অনেক দেশ রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। চীন ও রাশিয়ার মতো প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলো সারের রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছে বা বিশেষ লাইসেন্স পদ্ধতি চালু করেছে, যা বিশ্ববাজারের ১৫ শতাংশ থেকে ২৩ শতাংশ বাণিজ্যকে প্রভাবিত করছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের মতো দেশগুলো লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে বিকল্প পথে সার পাঠানোর চেষ্টা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম এবং ব্যয়বহুল।

আরও পড়ুন

×