ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কয়েক ঘণ্টায় ঘরে বসেই পাওয়া যাবে কোম্পানির নিবন্ধন

কয়েক ঘণ্টায় ঘরে বসেই পাওয়া যাবে কোম্পানির নিবন্ধন
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬ | ২২:২৫

কোম্পানি নিবন্ধনের দীর্ঘসূত্রতা ও দাপ্তরিক জটিলতা কমাতে পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সিঙ্গাপুরের দ্রুত ও কার্যকর ব্যবসা নিবন্ধন ব্যবস্থার আদলে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) চালু করতে যাচ্ছে ‘ইলেকট্রনিক বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম’ (ইবিআরএস)। এটি পুরোপুরি চালু হলে উদ্যোক্তারা ঘরে বসেই কোম্পানির নাম ছাড়পত্র থেকে চূড়ান্ত নিবন্ধন পর্যন্ত সব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে কর্মকর্তাদের দ্রুত যাচাইয়ের মাধ্যমে আবেদন পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোম্পানি নিবন্ধন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া শতভাগ স্বয়ংক্রিয় হলে নিবন্ধনের সময় আরও কমে আসবে বলে আশা করছে সরকার।

সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আরজেএসসির কার্যক্রম আধুনিকায়নসংক্রান্ত এক সভায় ইবিআরএস চালুর অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য উদ্যোক্তাদের আর আরজেএসসি কার্যালয়ে যেতে হবে না। ঘরে বসেই স্বল্প সময়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করার সুযোগ দিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করা হবে।

এনআইডি-ই-টিন যাচাই হবে তাৎক্ষণিক

নতুন ইবিআরএসে উদ্যোক্তারা যেকোনো সময় অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনে দেওয়া তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত ও জালিয়াতি ঠেকাতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ই-টিন ও মোবাইল নম্বর রিয়েল-টাইমে প্রাক্-যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এতে ভুল বা অসংগত তথ্য দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

কোম্পানি গঠনের আইনি প্রক্রিয়াও সহজ করা হচ্ছে। সংঘস্মারক (এমওএ) ও সংঘবিধির (এওএ) জন্য উদ্যোক্তাদের তিন ধরনের বিকল্প থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে স্ট্যান্ডার্ড মডেল, ব্যবসার প্রয়োজন অনুযায়ী ধারা সংযোজনের সুযোগসহ কাস্টমাইজড মডেল এবং পূর্বানুমোদিত প্রি-অ্যাপ্রুভড এমওএ ও এওএ। মডেল ও পূর্বানুমোদিত নথি ব্যবহারের ফলে যাচাই ও অনুমোদনের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্ত হচ্ছে সরকারি ডাটাবেজ

নিবন্ধন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করতে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজের সঙ্গে ইবিআরএসের সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে। এনআইডি ও ভোটার তথ্য যাচাইয়ে নির্বাচন কমিশন, মোবাইল সিম যাচাইয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং ক্লাউড নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের (বিডিসিসিএল) সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

ইবিআরএসের কারিগরি নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে পরামর্শক হিসেবে যুক্ত রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। ইতোমধ্যে সফটওয়্যারের নিবন্ধন মডিউলের ইউজার অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্ট (ইউএটি) শেষ হয়েছে। ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিমার্জনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন অনুযায়ী সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডাইনামিক সলিউশন লিমিটেড আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে সফটওয়্যারটির চূড়ান্ত রূপান্তর ও হস্তান্তর করবে।

প্রথম ছয় মাসে কয়েক ঘণ্টায় নিবন্ধন

শতভাগ স্বয়ংক্রিয় ‘অটো নেম ক্লিয়ারেন্স’ ব্যবস্থা আরও নির্ভুল করতে ব্যাক-এন্ড অ্যালগরিদম উন্নয়নের কাজ চলছে। পুরো অটোমেশন চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে প্রথম ছয় মাস আবেদন পাওয়ার পর কর্মকর্তারা নাম ছাড়পত্র পুনঃযাচাই করবেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সঠিক থাকলে কর্মকর্তাদের দ্রুত যাচাইয়ের মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিবন্ধন চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। পরবর্তী সময়ে অটোমেশন পুরোপুরি চালু হলে এ প্রক্রিয়ায় মানবিক হস্তক্ষেপ আরও কমে আসবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ইবিআরএস চালু হলে কোম্পানি গঠনে উদ্যোক্তাদের সময় ও ব্যয় কমবে। দপ্তরে সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজন কমার পাশাপাশি তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হওয়ায় সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। নতুন উদ্যোক্তা, স্টার্টআপ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দ্রুত ব্যবসা শুরু করার সুযোগও তৈরি হবে।

সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও আরজেএসসির নিবন্ধক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×