ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডিবিএর আলোচনায় কমিশনের চেয়ারম্যান

শেয়ারবাজারের উত্থান-পতনে হস্তক্ষেপ করবে না বিএসইসি

শেয়ারবাজারের উত্থান-পতনে হস্তক্ষেপ করবে না বিএসইসি
×

মাসুদ খান

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘস্থায়ী স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, সাময়িক কোনো পদক্ষেপ শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়নে কাজ করে না। তাই সূচক বাড়ল, কী কমলো, তাতে হস্তক্ষেপ করবে না বিএসইসি। নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাজকে তাৎক্ষণিক সূচকের ওঠানামা দিয়ে বিচার না করে, তাদের নেওয়া নীতিগত সংস্কারের বাস্তবায়ন দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে।

গতকাল সোমবার ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) আয়োজিত ‘শেয়ারবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ব্রোকার প্রতিনিধি, মার্চেন্ট ব্যাংকার এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কাজ দিয়ে মূল্যায়নের আহ্বান
বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান তাঁর বক্তব্যে শেয়ারবাজারের উন্নয়নে কমিশনের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে। 

চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দুই মাসে নেওয়া বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে জানান, এই কমিশনের দ্বিতীয় দিনেই ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় দাবি ছিল। ফ্লোর প্রাইস আরোপের পর মর্গান স্ট্যানলি ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল (এমএসসিআই) বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের সূচক প্রকাশ স্থগিত করেছিল, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনাস্থা সৃষ্টি করেছিল। বিএসইসির সফল যোগাযোগের ফলে আগামী নভেম্বর থেকে এমএসসিআই পুনরায় বাংলাদেশের সূচক প্রকাশ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শেয়ারবাজারে ভালো কোম্পানির অভাব দূর করতে মঙ্গলবার কমিশন সভায় বহুল প্রতীক্ষিত ডাইরেক্ট লিস্টিং রেগুলেশনের খসড়া অনুমোদন হবে এবং পরদিন তা জনমতের জন্য প্রকাশ করা হবে। এর ফলে ভালো কোম্পানি দীর্ঘ আইপিও প্রক্রিয়ায় না গিয়ে মাত্র দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তালিকাভুক্ত হতে পারবে।

তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাইব্রিড লিস্টিং সিস্টেমও চালু করা হবে। একই সঙ্গে সিকিউরিটিজ অ্যাক্টের ২০এ ধারা ব্যবহার করে জনস্বার্থে বড় এবং লাভজনক কোম্পানিগুলোকে পাবলিক ইন্টারেস্ট কোম্পানি ঘোষণা করে বাজারে তালিকাভুক্ত হতে বাধ্য করতে আইন করা হচ্ছে।
কমিশন চেয়ারম্যান জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা টি+১ বা কেনাবেচার পরদিনই নিষ্পত্তির জন্য সিডিবিএল, ডিএসই এবং বিদেশি কাস্টডিয়ান ব্যাংকগুলোর সঙ্গে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।

অংশীজনের মত
আলোচনায় অংশ নিয়ে শেয়ারবাজারের অংশীজন ও ব্রোকার প্রতিনিধিরা বাজারের নানা সংকটের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, বিগত তিন বছরে বাজারে কার্যকর কোনো আইপিও আসেনি। একটি ক্যাপিটাল মার্কেট শুধু সেকেন্ডারি মার্কেটের ওপর ভর করে চলতে পারে না। বাজারে বর্তমানে প্রায় ৪০০ কোম্পানির মধ্যে প্রায় ২০০ কোম্পানিই বি ও জেড ক্যাটেগরির। 
সমকালের সাংবাদিক আনোয়ার ইব্রাহীম বলেন, দেশে প্রায় ২ কোটি মানুষের বিনিয়োগের সক্ষমতা থাকলেও আস্থার অভাবে তারা শেয়ারবাজারে না এসে ব্যাংকে এবং সঞ্চয়পত্রে টাকা রাখেন। দেশের আর্থিক খাতের সামগ্রিক বিকাশের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, বীমা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ এবং বিএসইসির মধ্যে একটি সমন্বিত নীতি অত্যন্ত জরুরি। 
ব্রোকার প্রতিনিধি আহমেদ রশিদ লালী অভিযোগ, ডিএসইর সার্ভিলেন্স ব্যবস্থা অনেক সময় অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ডিএসইতে ভালো আইপিও আনার জন্য একটি কার্যকর ‘মার্কেটিং ডিপার্টমেন্ট’ থাকা প্রয়োজন, যা বড় করপোরেটদের তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করবে।

সিএসইর সাবেক সভাপতি আল মারুফ খান ডিমিউচুয়ালাইজেশনের কার্যকারিতা এবং ডিএসই এখনও সিঙ্গেল প্রোডাক্ট মার্কেটেই আটকে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা না হওয়া, সেকেন্ডারি মার্কেট ছাড়া বিনিয়োগ প্রত্যাহারের বিকল্প পথ না থাকা, ব্রোকার হাউসের ব্যবসা সংকুচিত হওয়া এবং রেগুলেটরি ব্যর্থতার সমালোচনা করেন।
ডিবিএর সহসভাপতি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান গ্লোবাল প্র্যাকটিসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্রোকারদের মেম্বার মার্জিন, সিসি অ্যাকাউন্ট এক্সপোজার লিমিট সমস্যা দূর করতে অনুরোধ জানান।
শেয়ারবাজার একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ মাধ্যমে রূপ না পেয়ে কেবল ডে-ট্রেডারদের বাজারে পরিণত হওয়ার উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিএপিএলসির সভাপতি রিয়াদ মাহমুদ। 
ডিএসইর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বাজার উন্নয়নে ডিবিএ এবং বিএসইসির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তালিকাভুক্তি ফি ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। ডিএসইর লিস্টিং ডিপার্টমেন্টকে আরও শক্তিশালী ও পেশাদার করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইপিএফ রেগুলেশন সংশোধন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×