ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কম দামে ইঞ্জিন অয়েল বদলালেন- খরচ কি কমলো

কম দামে ইঞ্জিন অয়েল বদলালেন- খরচ কি কমলো
×

ছবি-সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:১৩ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:০৮

ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনের সময় আমরা অনেকেই দাম, পরিচিতি বা হাতের কাছে পাওয়া যাচ্ছে কি না- সেসব বিষয় আগে বিবেচনা করি। প্যাকেজিংয়ের সিল ঠিক আছে কি না, গাড়ির জন্য নির্ধারিত গ্রেডটি মিলছে কি না কিংবা পণ্যটি যাচাই করার কোনো ব্যবস্থা আছে কি না- তা হয়তো খেয়াল করা হয় না। সমস্যা হলো, নিম্নমানের বা ভেজাল ইঞ্জিন অয়েলের ক্ষতি সাধারণত সঙ্গে সঙ্গে বুঝা যায় না। গাড়ি চলতে থাকে, ইঞ্জিনও স্টার্ট নেয়। ফলে বাইরে থেকে মনে হতে পাওে সবকিছু স্বাভাবিক। কিন্তু ইঞ্জিনের ভিতরে ধীরে ধীওে বাড়তে পারে ঘর্ষণ, তাপ ও ক্ষয়। আজ অল্প টাকার পার্থক্যকে গুরুত্ব না দেওয়ার ফল কয়েক মাস পর বড় ধরনের মেরামত খরচ হয়ে সামনে আসতে পারে।

ভেজাল বা নিম্নমানের ইঞ্জিন অয়েলে ইঞ্জিনের কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে?
ইঞ্জিনের পিস্টন, সিলিন্ডার ও বিয়ারিংসহ ধাতব অংশগুলো দ্রুতগতিতে কাজ করে, তাই মানসম্পন্ন ইঞ্জিন অয়েল তাদের মাঝে প্রয়োজনীয় সুরক্ষার স্তর তৈরি করে। অয়েলের মান বা ঘনত্ব ঠিক না থাকলে ঘর্ষণ বেড়ে যন্ত্রাংশ দ্রুত ক্ষয় হয়, যার ফলে অস্বাভাবিক শব্দ, কম পারফরম্যান্স, অতিরিক্ত কম্পন বা ইঞ্জিন ভারী লাগার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি ইঞ্জিনের অয়েল পাইপ ও রেডিয়েটরের ভেতরে ময়লা জমে এর কার্যকারিতা কমিয়ে ফেলে।

শুধু ব্র্যান্ডের নাম নয়, সঠিক গ্রেডও জরুরি
আসল ও মানসম্পন্ন অয়েল ব্যবহার করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। আপনার গাড়ি বা মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের জন্য সঠিক গ্রেডের অয়েল নির্বাচন করাও জরুরি। ইঞ্জিন অয়েলের বোতলে সাধারণত SAR Grade লেখা থাকে, যেমন- 5W-30, 10W-40 ev 20W-50। এগুলো অয়েলের ঘনত্ব এবং বিভিন্ন তাপমাত্রায় এর কার্যকারিতা নির্দেশ করে। কোন ইঞ্জিনে কোন গ্রেড ব্যবহার করতে হবে, তা গাড়ির প্রস্তুতকারকের ম্যানুয়ালে উল্লেখ থাকে। পাশাপাশি বোতলে থাকা অথচও Service Category অয়েলটির পারফরম্যান্স মান সম্পর্কে ধারণা দেয়। নিজের গাড়ির ম্যানুয়ালে উল্লেখ করা ঝঅঊ ও অচও প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে বোতলের তথ্য মিলিয়ে নেওয়া একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর অভ্যাস।

ব্যক্তিগত ব্যয় থেকে জাতীয় ক্ষতি
ভেজাল ও নিম্নমানের ইঞ্জিন অয়েলের প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত গাড়ির মেরামত খরচেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি জাতীয় অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি করে। এর কারণে জ্বালানি খরচ বাড়ে, যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ঘন ঘন বিকল হয়ে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হয়, আর ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হওয়ায় নতুন পার্টস আমদানিতে অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। সময়ের আগে গাড়ি বদলালেও বৈদেশিক মুদ্রার খরচ বেড়ে যায়। পাশাপাশি মানহীন পণ্যের অনিয়ন্ত্রিত বাজার থেকে সরকারও প্রয়োজনীয় রাজস্ব হারায়।

ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে
ইঞ্জিন চলার সময় তৈরি হওয়া তাপ নিয়ন্ত্রণে সঠিক মানের ইঞ্জিন অয়েল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিম্নমানের অয়েল উচ্চ তাপে কার্যকারিতা হারালে লুব্রিকেশন কমে ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হতে পারে। দীর্ঘদিন এমন হলে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ আটকে যাওয়া বা ইঞ্জিন ‘সিজ’ করার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত ব্যয়বহুল মেরামতের কারণ হতে পারে।

মাইলেজ কমে গিয়ে বাড়ায় জ্বালানি খরচ
ইঞ্জিনের ভিতরে ঘর্ষণ বেড়ে গেলে একই গতি বজায় রাখতে বেশি শক্তি ও জ্বালানি প্রয়োজন হয়। ফলে মাইলেজ কমে যেতে পারে, যার পিছনে ইঞ্জিন অয়েলের মানও গুরুত্ব¡পূর্ণ কারণ। তাই কম দামের অয়েলে সাময়িক সাশ্রয় হলেও অতিরিক্ত জ্বালানি খরচে শেষ পর্যন্ত ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

অয়েল পরিবর্তনের সময়ও সচেতন থাকুন
সার্ভিসিংয়ের সময় শুধু গাড়ি রেখে চলে না গিয়ে সম্ভব হলে অয়েল পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি লক্ষ্য করুন। নতুন বোতলের সিল আপনার সামনে খোলা হচ্ছে কি না দেখুন। ব্যবহৃত খালি বোতলটি নষ্ট করে ফেলুন, যাতে সেটি পুনরায় ব্যবহার করা না যায়। পুরনো অয়েল মাটি, ড্রেন বা খোলা জায়গায় না ফেলে নির্ধারিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অপসারণ করাও দায়িত্বশীল আচরণের অংশ।

ইঞ্জিন অয়েল কেনার আগে পাঁচটি বিষয় নিজে দেখুন
ইঞ্জিন অয়েল সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই। কেনার সময় কয়েকটি সাধারণ বিষয় যাচাই করলেই অনেক ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। প্রথমত, গাড়ির ম্যানুয়াল দেখুন। আপনার ইঞ্জিনের জন্য কোন SAE Grade I API Category  প্রয়োজন, তা আগে জেনে নিন। দ্বিতীয়ত, প্যাকেজিং পরীক্ষা করুন। বোতলের মুখের সিল অক্ষত আছে কি না, ঢাকনায় কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কি না এবং লেবেলের লেখা স্পষ্ট কি না, তা ভালোভাবে দেখুন। তৃতীয়ত, যাচাইকরণ সুবিধা ব্যবহার করুন।
প্যাকেজিংয়ে বা অন্য কোনো যাচাইকরণ ব্যবস্থা থাকলে কেনার সময়ই সেটি ব্যবহার করুন। বর্তমানে অধিকাংশ স্বনামধন্য ইঞ্জিন অয়েল ব্র্যান্ডেরই আসল পণ্য যাচাইয়ের নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। যেমন, মবিল ইঞ্জিন অয়েলের ক্যানে থাকে একটি বিশেষ Security Seal যার মাধ্যমে সহজেই অথেন্টিসিটি নিশ্চিত হওয়া যায়।
চতুর্থত, নির্ভরযোগ্য বিক্রয়কেন্দ্র বেছে নিন। অনুমোদিত ডিলার, ব্র্যান্ডেড আউটলেট বা পরিচিত ও বিশ্বস্ত বিক্রয়কেন্দ্র থেকে পণ্য কিনুন। এছাড়াও কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইট বা অনুমোদিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকেও কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ঘরে বসে আসল পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। মনে রাখবেন, বাজারদরের তুলনায় কম দামে পণ্য অফার করা হলে সেটি ভেজাল বা নিম্নমানের হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। তাই কেনার আগে বাজারমূল্য যাচাই করে নিন। পঞ্চমত, রসিদ সংরক্ষণ করুন। ক্যাশ মেমো বা ক্রয়ের প্রমাণ রেখে দিন। এটি পণ্যের উৎস নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারে। আপনার গাড়ি বা মোটরসাইকেলে ভেজাল কিংবা নিম্নমানের ইঞ্জিন অয়েল দিচ্ছেন না তো?

গাড়ি বা মোটরসাইকেল পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত সার্ভিসিং করা কিংবা টায়ারের চাপ

পরীক্ষা করার বিষয়ে আমরা যতটা ভাবি, ইঞ্জিনের ভেতরে কোন মানের অয়েল যাচ্ছে, তা নিয়ে কিন্তু ততটা ভাবি না। আর এই সচেতনতার অভাবে আমাদের অগোচরেই নিম্নমানের ও ভেজাল ইঞ্জিন অয়েল ঢুকে পড়ছে প্রিয় বাহনটির ইঞ্জিনে। ফলস্বরূপ, ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে, বাড়ছে জ্বালানি ও মেরামত খরচ। নিজের গাড়ি বা মোটরসাইকেল মানে শুধু যাতায়াতের একটি মাধ্যম নয়। প্রতিদিনের অফিস, পরিবারের প্রয়োজন, জরুরি মুহূর্ত কিংবা পছন্দেও গন্তব্যে পৌঁছানোর নির্ভরযোগ্য সঙ্গী এটি। তাই বাহনের বাইরের ছোটখাটো শব্দ, স্ক্র্যাচ বা টায়ারের সমস্যাও সহজেই আমাদের নজরে পড়ে। কিন্তু ইঞ্জিনের ভেতরে প্রতিদিন কী ঘটছে, তা চোখে দেখা যায় না। আর এই অদৃশ্য জায়গাটিতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ইঞ্জিন অয়েল। ইঞ্জিন অয়েল শুধু ইঞ্জিনের ভেতরের অংশগুলোকে পিচ্ছিল রাখে না। এটি চলন্ত ধাতব যন্ত্রাংশের ঘর্ষণ কমায়, অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, ময়লা ও ক্ষতিকর জমাট প্রতিরোধ করে এবং ইঞ্জিনকে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতায় চালু রাখে। তাই সঠিক মান ও সঠিক গ্রেডের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা ইঞ্জিনের দীর্ঘায়ু ও গাড়ির স্বাভাবিক পারফরম্যান্সের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইঞ্জিনের সুরক্ষায় মবিল ইঞ্জিন অয়েল

ভালো মানের ইঞ্জিন অয়েল ইঞ্জিনের ঘর্ষণ ও ক্ষয় কমায়, অতিরিক্ত তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং ভিতরে ময়লা জমতে বাধা দেয়। ফলে ইঞ্জিন চলে মসৃণভাবে, পারফরম্যান্স ভালো থাকে এবং বড় ধরনের মেরামতের ঝুঁকিও কমে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও উন্নত প্রযুক্তির কারণে গড়নরষ বিশ্বজুড়ে একটি নির্ভরযোগ্য ইঞ্জিন অয়েল ব্যান্ড। এর বিভিন্ন পণ্য আন্তর্জাতিক অচও মান অনুসরণ করে তৈরি, যা অয়েলের গুণমান ও ইঞ্জিন সুরক্ষার সক্ষমতা নির্দেশ করে। বাংলাদেশে ExxonMobil- এর Strategic Alliance Partner হিসেবে রয়েছে MJL Bangladesh PLC যা গ্রাহকদের কাছে গড়নরষ-এর মানসম্মত পণ্য পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখছে। তাই গাড়ি বা মোটরসাইকেলের জন্য নির্ধারিত সঠিক গ্রেডের আসল গড়নরষ ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ভিতরের অংশ পরিষ্কার ও সুরক্ষিত থাকে, স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা বজায় থাকে এবং ইঞ্জিনকে দীর্ঘদিন ভালো রাখা সম্ভব হয়। সঠিক সময়ে গড়নরষ ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করলে ইঞ্জিনের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমে এবং গাড়ি চালানো যায় আরও স্বাচ্ছন্দ্যে। একই সঙ্গে হঠাৎ ইঞ্জিনের সমস্যা বা অপ্রত্যাশিত মেরামত খরচের আশঙ্কাও কমে আসে। অর্থাৎ, ভালো ইঞ্জিন অয়েল বেছে নেওয়া শুধু আজকের পারফরম্যান্স নয়, ভবিষ্যতের বড় খরচ থেকেও সুরক্ষিত থাকার বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত। ভালো মানের ইঞ্জিন অয়েল ইঞ্জিনকে সচল রেখে জ্বালানি সাশ্রয়ে সহায়তা করে এবং কার্যকর দহনের মাধ্যমে ক্ষতিকর গ্যাসের নির্গমন কমাতে ভ‚মিকা রাখে, যা একই সঙ্গে ইঞ্জিন ও পরিবেশের সুরক্ষায় সহায়ক।

পরবর্তী ইঞ্জিন অয়েল বদলানোর আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন
*    এটি কি গাড়ির ইঞ্জিনের সঠিক গ্রেড?
*    প্যাকেজিংয়ের সিল কি অক্ষত?
*    পণ্যের মান ও সিকিউরিটি ফিচার কি যাচাই করেছি?
*    ক্রয়ের রসিদ কি সঙ্গে নিয়েছি?

ইঞ্জিন আপনাকে আগে থেকে সতর্ক নাও করতে পারে
ভেজাল বা নিম্নমানের ইঞ্জিন অয়েলের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো, ক্ষতিটি অনেক সময় নীরবে ঘটে। প্রথম দিনেই গাড়ি বন্ধ হয়ে যায় না। বরং ধীওে ধীরে মাইলেজ কমে, ইঞ্জিন গরম হয়, শব্দ পরিবর্তিত হয় এবং ভিতরের যন্ত্রাংশ ক্ষয় হতে থাকে। সমস্যা চোখে পড়ার সময় হয়তো ইঞ্জিন ইতোমধ্যেই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে গেছে। তাই ইঞ্জিনে সমস্যা হওয়ার পর অয়েল নিয়ে ভাবার চেয়ে, অয়েল কেনার সময়ই সচেতন হওয়া অনেক সহজ এবং সাশ্রয়ী।

ইঞ্জিনে জমতে পারে স্লাজ
নিম্নমানের অয়েল দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ইঞ্জিনে স্লাজ বা আঠালো ময়লা জমে অয়েলের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে অয়েল ফিল্টার, স্পার্ক প্লাগ, সেন্সরসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ছোট এই অসচেতনতাই শেষ পর্যন্ত বড় অঙ্কের পার্টস পরিবর্তন ও মেরামত খরচ ডেকে আনতে পারে। 

(A-542)

আরও পড়ুন

×