ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে ফার্মাসিস্ট নিয়োগের তাগিদ

প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে ফার্মাসিস্ট নিয়োগের তাগিদ
×

ছবি- সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:০৫

দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) প্রতিরোধে ফার্মেসিগুলোতে যথাযথ তদারকি এবং প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্টের মাধ্যমে ওষুধ বিতরণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আলমগীর হোসেন।

তিনি বলেন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে হলে শুধু অভিযান চালিয়ে হবে না, ফার্মেসিতে পেশাদার ফার্মাসিস্ট নিশ্চিত করতে হবে। রোগীকে ওষুধ দেওয়ার আগে প্রেসক্রিপশন বিশ্লেষণ, ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে পরামর্শ এবং রোগীর তথ্য সংরক্ষণে ফার্মাসিস্টের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

আজ বৃহস্পতিবার ‘ওয়ার্ল্ড পেশেন্ট সেফটি ডে-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ফার্মাকোভিজিল্যান্স আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আলমগীর হোসেন।

তিনি বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক ফার্মেসি রয়েছে। এসব ফার্মেসিকে যথাযথ তদারকির আওতায় আনা না গেলে এএমআর প্রতিরোধ করা কঠিন হবে। কারণ, রোগীরা যেকোনো সময় প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ফার্মেসি থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে নিতে পারেন। ওইখান থেকেই যেকোনো রোগী যেকোনো সময় উইদাউট প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে নিয়ে চলে যেতে পারে। 

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করা হয় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশেও বিষয়টি যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

ফার্মেসি পরিদর্শনের সময় কয়েকটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক। তাঁর ভাষ্য, অনিবন্ধিত কোনো পণ্য বিক্রি হচ্ছে কি না, ভেজাল ওষুধ বিক্রি হচ্ছে কি না এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে পরিদর্শকদের কঠোরভাবে নজর দিতে বলা হয়েছে।

আলমগীর হোসেন বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ বিক্রি নিয়ন্ত্রণে ওষুধ কোম্পানির বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্ন বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ ও বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

ফার্মেসিতে প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্টের ঘাটতি

দেশের ফার্মেসি ব্যবস্থাপনায় বড় ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে আলমগীর হোসেন বলেন, ভারত, মালয়েশিয়াসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ফার্মাসিস্ট ছাড়া ফার্মেসি পরিচালনার সুযোগ নেই। একজন ফার্মাসিস্ট জানেন কোন ওষুধ কীভাবে রোগীকে দিতে হবে, রোগীকে কীভাবে পরামর্শ দিতে হবে এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোন ওষুধ বিক্রি করা যায় না।

তবে বাংলাদেশে এ ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বর্তমানে সংকট মোকাবিলায় তিন মাসের একটি কোর্সের মাধ্যমে ‘সি গ্রেডের ফার্মাসিস্ট’ তৈরি করে ফার্মেসিতে যুক্ত করা হচ্ছে। এসব ফার্মাসিস্টের অনেকেরই অ্যান্টিবায়োটিক সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নেই।

তিনি বলেন, আমরা যদি ভিজিটে যাই, অসংখ্য ফার্মাসিস্ট এরকম পাবো, যারা অ্যান্টিবায়োটিক সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণাই নাই—অ্যান্টিবায়োটিক কী জিনিস তাও জানে না, অথচ তারা অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি করছে।

সরকারি হাসপাতালে ফার্মাসিস্ট নিয়োগের প্রস্তাব

অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার কমাতে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ফার্মাসিস্ট নিয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন ঔষধ প্রশাসনের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে ফার্মাসিস্ট নিয়োগ করে তাঁদের দিয়ে ওষুধ ডিসপেন্সিং, রোগীকে পরামর্শ দেওয়া, রোগীর ওষুধ-সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রেসক্রিপশন বিশ্লেষণের কাজ করানো গেলে ওষুধের অপব্যবহার অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

আরও পড়ুন

×