ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাম

নিউমোনিয়ার জটিলতা ছিল আক্রান্ত ৭৮ শতাংশ শিশুর

নিউমোনিয়ার জটিলতা ছিল আক্রান্ত ৭৮ শতাংশ শিশুর
×

 শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম 

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৬ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০০

| প্রিন্ট সংস্করণ

হামে আক্রান্ত রেকর্ড ৭৮ দশমিক ৯ শতাংশ শিশুর নিউমোনিয়ার জটিলতায় ভোগার প্রমাণ মিলেছে। আক্রান্ত শিশুর অর্ধেকের বেশির হাম অত্যন্ত জটিল ও গুরুতর পর্যায়ে ছিল। ৫৮ দশমিক শিশু হামের এক ডোজ টিকাও নেয়নি, যাদের মধ্যে ৪৬ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম ছিল। ৩১ শতাংশ শিশুর শরীরে মিলেছে তীব্র অপুষ্টিতে ভোগার প্রমাণও।

হামে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের চারটি হাসপাতালে ভর্তি ৩০০ শিশুর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় এমন তথ্যপ্রমাণ পেয়েছেন এক দল গবেষক।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, মায়ের বুকের দুধ পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ শিশু। শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ‘এ’ না পাওয়া শিশুদের ৫৯ শতাংশই গুরুতর জটিলতার শিকার হয়েছে। হামের গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরির প্রধান কারণ মাঝারি ও তীব্র অপুষ্টি। জীবনে হামের টিকা পেয়েছেন মাত্র ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ শিশুর মা। 

‘মিজলস আউটব্রেক ২০২৬ ইন সাউদার্ন বাংলাদেশ: এপিডেমিওলজিক্যাল প্রোফাইল, ক্লিনিক্যাল ক্যারেক্টারিস্টিকস, জেনেটিক অ্যানালাইসিস উইথ ম্যাটারনাল অ্যান্ড চাইল্ড অ্যান্টিবডি স্ট্যাটাস’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। 

এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পরিচালিত এই গবেষণায় চট্টগ্রাম বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৩০০ শিশুর যাবতীয় তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯৭ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪৫, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩৪ জন এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০ শিশুর নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাটি সম্পন্ন করা হয়। আক্রান্ত শিশুদের বয়স ছিল দুই মাস থেকে ১১ বছর পর্যন্ত। 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক রিসার্চ গ্রুপের সহযোগিতায় এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। মুখ্য গবেষক চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কামরুন নাহার। উপদেষ্টা ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিয়া ও চমেক মেডিসিন বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক এমএ হাসান। গবেষণা সহযোগী ছিলেন ডা. সেলিনা হক, ডা. আয়েশা বেগম, ডা. মোহাম্মদ জাবেদ বিন আমিন চৌধুরী, ডা. সায়েদা হুমায়দা হাসান, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ডা. আসমা ফেরদৌসী ও ডা. সানজানা ইসলাম, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ এবং কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. এমএস জামান। গত ৪ এপ্রিল থেকে নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করে গবেষক দল। প্রায় পাঁচ মাস ধরে যাবতীয় কাজ শেষে এমন তথ্যপ্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন তারা। 

গবেষক কামরুন নাহার সমকালকে বলেন, ‘অতীতের আর কোনো সময়ের তুলনায় এবার সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক শিশুর প্রাণও গেছে। তাই রোগটিতে আক্রান্ত হওয়ার পেছনের অজানা কাহিনি তুলে ধরতেই গবেষণাটির উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিচালিত গবেষণায় পিলে চমকানোর মতো নতুন অনেক তথ্য-উপাত্ত খুঁজে পেয়েছি আমরা। গবেষণায় হামের গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরির প্রধান কারণ মাঝারি ও তীব্র অপুষ্টি। তাছাড়া উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু হামের এক ডোজও টিকা না পাওয়া ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। টিকা না নেওয়া শিশুদের গুরুতর জটিলতায় ভোগার ঝুঁকি টিকা নেওয়া শিশুদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।’ 

শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ মুসা মিয়া বলেন, ‘চট্টগ্রামে প্রতিনিয়তই বাড়ছে হাম ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা শিশুর সংখ্যা। হামের প্রাদুর্ভাব কমার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। শিশুরা মূলত কী কী কারণে হামে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, গবেষণায় তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার পেছনের নানা অজানা কারণও উঠে এসেছে গবেষণায়। এই গবেষণা ভবিষ্যতে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যু ঠেকাতে বড় ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ করে তুলতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ক্ষেত্রেও অবদান রাখবে।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গবেষণায় প্রায় অর্ধেক শিশু নিয়মিত টিকাদানের বয়সে পৌঁছানোর আগেই হামে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য উদ্বেগের। হাম থেকে শিশুদের সুরক্ষায় টিকাদান, পর্যাপ্ত পুষ্টি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। 

আক্রান্তদের ৮৬ শতাংশের শরীরে গুরুতর জটিলতা 
গবেষণায় হামে আক্রান্ত শিশুদের ৮৬ দশমিক ৭ শতাংশের শরীরে অন্তত একটি গুরুতর জটিলতা পাওয়া গেছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭৮ দশমিক ৯ শতাংশের মিলেছে নিউমোনিয়ার জটিলতা। এ ছাড়া হার্ট ফেইলিউর, শক ও এনসেফালাইটিস, ডায়রিয়ার মতো জটিলতা ভোগার প্রমাণ মিলেছে। আক্রান্তদের ৫৩ শতাংশের হাম অত্যন্ত জটিল ও গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ শিশুর চোখ ও মুখে মারাত্মক ক্ষত তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে, বলছেন গবেষকরা।

টিকা না পাওয়া ৫৮ শতাংশ শিশু বেশি ঝুঁকিতে
আক্রান্ত শিশুদের ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ হামের এক ডোজও টিকা নেয়নি। এদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ শিশুর বয়সই ছিল ৯ মাসের কম। টিকা না নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা হয়েছে অসচেতনতা বা টিকা দেওয়ার তারিখ ভুলে যাওয়াকে। এ ছাড়া শিশু অসুস্থ থাকা ৩০ শতাংশ, মায়ের অসুস্থতার কারণে ৮ শতাংশ, ভয়ে ৪ শতাংশ, টিকা কার্ড হারিয়ে ফেলার কারণে ৪ শতাংশ শিশু টিকা নেয়নি।

অপুষ্টি বাড়িয়েছে জটিলতার ঝুঁকি
হামে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই তীব্র অপুষ্টিতে ভোগার প্রমাণ মিলেছে গবেষণায়। এতে মাঝারি ও তীব্র অপুষ্টিকে হামের গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরির সবচেয়ে শক্তিশালী স্বাধীন নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুষ্টির ঘাটতিই নয়, মায়ের বুকের দুধ পাওয়ার ইতিহাসও গবেষণায় বিবেচনায় নেওয়া হয়। ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ শিশু মায়ের বুকের দুধ পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, শুধু বুকের দুধ খাওয়ানো হামের তীব্রতা শতভাগ কমাতে সক্ষম নয়। এর সঙ্গে যথাযথ চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত পুষ্টিও প্রয়োজন।

অনেক শিশু পায়নি ভিটামিন ‘এ’ 
আক্রান্ত শিশুদের ৩২ দশমিক ১ শতাংশ হামের গুরুতর জটিলতা প্রতিরোধে অত্যন্ত সহায়ক ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পায়নি। যারা ভিটামিন ‘এ’ পায়নি, তাদের মধ্যে ৫৯ শতাংশ মারাত্মক ও তীব্র জটিলতার শিকার হয়েছে। 

গবেষণায় দেখা গেছে, ৭৫ দশমিক ৫ শতাংশ শিশু গ্রামীণ বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের। ৬৪ দশমিক ৮ শতাংশ নিম্ন আর্থসামাজিক অবস্থা থেকে আসা। যা প্রমাণ করে, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এই ভাইরাসের চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। গবেষণায় দারিদ্র্য, বস্তি, গ্রামীণ পরিবেশ, অতিরিক্ত জনবহুল ঘিঞ্জি ঘর এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না থাকাকে জটিলতার ঝুঁকি বাড়ানোর পরিবেশগত কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মায়ের অ্যান্টিবডিও সুরক্ষা দেয়নি
গবেষণায় মায়েদের ৯৪ দশমিক ৮ শতাংশের শরীরে মিজলস আইজিজি অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। কিন্তু মাত্র ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ মা জানিয়েছেন, তারা জীবনে মাত্র একবার হামের টিকা পেয়েছেন। যেসব মায়ের টিকার ইতিহাস ছিল না, তাদের ৫৫ শতাংশ শিশুই গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছে। আর যেসব মায়ের আইজিজি নেগেটিভ ছিল, তাদের ৪০ শতাংশ শিশু গুরুতর জটিলতার শিকার হয়েছে।

গবেষকদের মতে, মায়ের শরীরে আইজিজি পজিটিভ থাকলেও তা শিশুকে নিউমোনিয়া বা হামের গুরুতর জটিলতা থেকে শতভাগ সুরক্ষা দিতে পারেনি।

১৭টি নমুনায় বি৩ জিনোটাইপ শনাক্ত
হামের ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করতে আক্রান্তদের ১৭টি নমুনায় উচ্চ মানের হোল জিনোম সিকোয়েন্সিং করে সব কটিতেই বি৩ জিনোটাইপ শনাক্ত হয়েছে।

গবেষকদের মতে, বি৩ জিনোটাইপ বাংলাদেশে আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআর,বির মাধ্যমে এবং আন্তর্জাতিকভাবে আগে থেকে ছড়িয়ে থাকা ভাইরাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ভাইরাসের জিনোমে কিছু জেনেটিক পরিবর্তনও শনাক্ত হয়েছে। 

আক্রান্ত শিশুর শরীরে মিলেছে নানা উপসর্গ
জ্বর, র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি, কাশি, সর্দি এবং চোখ ওঠার মতো লক্ষণগুলো ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। রোগীদের জ্বরের গড় স্থায়িত্ব ছিল ৭ দশমিক ৩০ দিন। ফুসকুড়ি থাকার গড় স্থায়িত্ব ছিল ৫ দশমিক ৬৪ দিন। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ৮২ দশমিক ৯ শতাংশ শিশুর শরীরে মিজলস আইজিএম পজিটিভ পাওয়া যায়, যা সাম্প্রতিক সংক্রমণ নিশ্চিত করে। এ ছাড়া ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশ শিশুর শরীরে মিজলস আইজিজি পজিটিভ পাওয়া যায়।

গবেষকদের সুপারিশ
হাম থেকে রক্ষা করতে ৯৫ শতাংশের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছেন গবেষকরা। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ক্যাচআপ টিকাদান এবং বাদ পড়া শিশু শনাক্ত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদানের কথা বলেছেন তারা। ৯ মাসের কম বয়সী শিশুদের সুরক্ষায় দ্রুত রোগী আলাদা করা, রোগীর অবস্থা অনুযায়ী প্রাথমিক বাছাই এবং সংস্পর্শে আসার পর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিতের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতিতে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করে ছয় মাস বয়সে এমআর টিকা দেওয়ার সম্ভাবনা এবং মায়েদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নারীদের এমআর বা এমএমআর টিকাদানের বিষয় বিবেচনার সুপারিশও করা হয়েছে। পরীক্ষাগারে দ্রুত রোগ নিশ্চিতকরণ ও দ্রুত রোগী অনুসন্ধান ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেছেন গবেষকরা।

হামের রোগীর চাপ বাড়ছেই
চট্টগ্রামে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। শুধু চমেক হাসপাতালের তথ্য বলছে, এখানে প্রতিদিনই নতুন করে অর্ধশতাধিক শিশু হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে গত তিন মাসে রেকর্ড প্রায় সাড়ে চার হাজার শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। 

গত ১৪ সেপ্টেম্বর রেকর্ড ৮৯ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। পরদিন ভর্তি হয় ৭০ শিশু। গতকাল এ সংখ্যা ছিল ৬১। এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আট হাজার দুজন শিশু। চিকিৎসাধীন আছে ২৮৮ শিশু।

 

আরও পড়ুন

×