ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিরাপদ সবজি রপ্তানিতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

নিরাপদ সবজি রপ্তানিতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:৪৭

আন্তর্জাতিক বাজারে নিরাপদ ও মানসম্মত সবজির নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা। এ ক্ষেত্রে কীটনাশক ব্যবস্থাপনা, ট্রেসঅ্যাবিলিটি, পরীক্ষা ও সনদায়ন, মোড়কীকরণ, লজিস্টিকস এবং অর্থায়ন ব্যবস্থার উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে ‘রপ্তানি প্রস্তুতির পথে: বাংলাদেশের সবজি রপ্তানি খাতের প্রতিবন্ধকতা ও অঙ্গীকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশ এ বৈঠকের আয়োজন করে। এটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান।

আলোচনায় জানানো হয়, দেশে বছরে দেড় কোটি মেট্রিক টনের বেশি সবজি উৎপাদিত হলেও এর শূন্য দশমিক ৩ শতাংশেরও কম রপ্তানি হয়। উৎপাদনের পাশাপাশি রপ্তানি বাড়াতে বড় বাধা হয়ে আছে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ, পরীক্ষা ও সনদায়ন, দুর্বল ট্রেসঅ্যাবিলিটি, উচ্চ পরিবহন ব্যয়, বিমানবন্দর ও কাস্টমসে বিলম্ব, দুর্বল মোড়কীকরণ এবং মূল্যশৃঙ্খলে সমন্বয়ের ঘাটতি।

এসজিএস বাংলাদেশ পরিচালিত একটি বাজার সমীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে রপ্তানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা রপ্তানি চালানের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও কমপ্লায়েন্সের প্রতিবন্ধকতাগুলো বিশ্লেষণ করেন। বিশেষ করে গার্ডজাতীয় সবজির চালান ইউরোপের বাজারে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় রপ্তানিকারকের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, খেত পর্যায়ে সঠিক কীটনাশক ব্যবহার ও ট্রেসঅ্যাবিলিটি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরীক্ষা ও সনদায়ন ব্যবস্থা সহজ ও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্য, উন্নত লজিস্টিকস, মানসম্মত মোড়কীকরণ, বাজারতথ্য এবং রপ্তানিকারকদের উপযোগী আর্থিক সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আমিরুল বাহরাইন বলেন, কীটনাশকের বিষাক্ততার মাত্রা অনুযায়ী রঙভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা থাকলেও খেত পর্যায়ে সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিতে ভালো মানের পণ্যের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক মোড়কীকরণ ও উপস্থাপনাও গুরুত্বপূর্ণ।

পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক মো. আব্দুল মজিদ প্রামানিক বলেন, দুর্বল বাজারতথ্য, উচ্চ ও অনিশ্চিত আকাশপথের পরিবহন ব্যয়, অপর্যাপ্ত লজিস্টিকস, সীমিত সমন্বয় ও দুর্বল ট্রেসঅ্যাবিলিটি সবজি রপ্তানির বড় প্রতিবন্ধকতা। এসব দূর করতে রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্য ও খেত পর্যায়ে ট্রেসঅ্যাবিলিটি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফভিএপিইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোবাশ্বেরুর রহমান জুয়েল বলেন, আকাশপথে পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়ায় বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের ওপর চাপ বাড়ছে। উচ্চ পরিবহন ব্যয়ের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসির চিফ অব ব্রাঞ্চ বিজনেস অ্যান্ড হেড অব অপারেশনস হেলাল আহমেদ বলেন, কৃষি রপ্তানি খাতে যুক্ত রপ্তানিকারক, কৃষক, পরামর্শক ও অন্যান্য অংশীজনের প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দিতে ব্যাংক প্রস্তুত রয়েছে।

সুইসকন্ট্যাক্ট বাংলাদেশের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ইশরাত ফাতেমা বলেন, বাংলাদেশের জমি, অনুকূল জলবায়ু ও কৃষক থাকলেও ক্রেতারা পণ্য হাতে পাওয়ার পরও আস্থা রাখতে পারেন, এমন পূর্ণাঙ্গ কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি। মূল্যশৃঙ্খলের প্রতিটি পর্যায়ে সমন্বিতভাবে এ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

গোলটেবিল বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, বিএসটিআই, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং বিএফভিএপিইএর সদস্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন

×