ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাত ৮টায় দোকান বন্ধে আর্থিক সংকটে ব্যবসায়ীরা

সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি, সোলার বসাতে ২% সুদে ঋণ চান দোকান মালিকরা

রাত ৮টায় দোকান বন্ধে আর্থিক সংকটে ব্যবসায়ীরা
×

ছবি-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:৪৯

গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং রাত ৮টায় দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি। সংগঠনটি রাত ৮টায় দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের পাশাপাশি দেশের সব মার্কেট ও বড় বিপণিবিতানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং রাত ৮টায় দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তের কারণে দোকান ও প্রতিষ্ঠানে বেচাকেনা কমে গেছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকেই বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত বিপণিবিতানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকে কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখছে সংগঠনটি।

দোকান মালিকরা বলেন, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) বা বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সাত বছর মেয়াদে ২ শতাংশ সুদে বিশেষ ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ঋণ পেলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিপণিবিতানগুলো নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে বলে তারা মনে করেন।

সোলার প্যানেল স্থাপনে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে দোকান মালিক সমিতি। এর মধ্যে রয়েছে মানসম্পন্ন সোলার প্যানেল নিশ্চিত করতে বিএসটিআই ও ইডকলের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা। সোলার প্যানেল স্থাপনের পর লাইসেন্স ফি ও সার্ভিস চার্জ থেকে অব্যাহতির দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

উৎপাদিত অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ সাড়ে ১০ শতাংশ হারে জাতীয় গ্রিডে বিক্রির সুযোগ আরও সহজ করার দাবি জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির যৌথ চুক্তির মাধ্যমে দ্রুত সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপন নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সোলার বিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম তদারকি এবং সমস্যা ও দুর্বলতা নিরসনে তিন মাস মেয়াদি একটি শক্তিশালী রেগুলেটরি বোর্ড গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে সমিতি। ব্যক্তি মালিকানাধীন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা জেলা পরিষদের অধীন যেসব মার্কেট কাঠামোগত অনুমোদনের জটিলতায় রয়েছে, সেগুলোর সোলার প্যানেল স্থাপনের আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করার দাবিও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সোলার প্যানেল স্থাপনের খরচ ও ঋণ পরিশোধের জন্য টেকসই তহবিল ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সমিতি বলেছে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিজস্ব সোলার প্যানেল স্থাপনের শর্তে ব্যবসায়ীদের জন্য রাত ৮টায় দোকান বন্ধের বাধ্যবাধকতা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। শুধু মার্কেট নয়, পর্যায়ক্রমে শিল্প-কারখানা, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও সোলার প্যানেল ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা। এতে সারাদেশে বিদ্যুতের ওপর চাপ ও লোডশেডিং কমবে বলে মনে করে সংগঠনটি।

দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ সংকটে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ সময় ধরে ভুগতে চান না। সারাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মার্কেট রয়েছে। বিপণিবিতানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা গেলে এবং ব্যবসায়ীরা সেই ঋণ পরিশোধ করতে পারলে অনেক ক্ষেত্রে মার্কেটকে বিদ্যুৎ বিল দিতে হবে না। বরং ছুটির দিনগুলোতে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, নতুন সরকারের কাছে দোকান মালিকদের দাবি, ২ শতাংশ সুদে পাঁচ অথবা সাত বছর মেয়াদি ঋণের ব্যবস্থা করা হোক। এতে দ্রুত সারাদেশে দুই থেকে আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রীর কাছে সমিতির পক্ষ থেকে একটি দরখাস্ত দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দোকান মালিক সমিতির মহাসচিব মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া, সহসভাপতি আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার ও হেজাজুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান ও আব্দুল মোতালেব রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জসীম উদ্দীন আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ হারুন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল অ্যান্ড পারফিউমারি মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলামসহ রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতারা।

আরও পড়ুন

×