ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

সোলার এক্সপো

টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনে পাঁচ উদ্যোগকে পুরস্কৃত করলেন প্রধানমন্ত্রী

টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনে পাঁচ উদ্যোগকে পুরস্কৃত করলেন প্রধানমন্ত্রী
×
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | ২১:০২ | আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | ২১:৪৪

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে নতুন উদ্ভাবনী ধারণার স্বীকৃতি দিতে আয়োজিত ‘স্ফুরণ: সাসটেইনেবল এনার্জি আইডিয়া কনটেস্ট ২০২৬’-এর বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ, টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা), ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেড যৌথভাবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০ )বাস্তবায়নে উদ্ভাবনী উদ্যোগ উৎসাহিত করা ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আবাসিক, শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে ১৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণ উদ্ভাবক ও পেশাজীবীদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, একটি উদ্ভাবনী ধারণাই বাংলাদেশের জন্য পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জিআইজেডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে  জানানো হয়, প্রতিযোগিতায় কয়েক ধাপের যাচাই-বাছাই এবং বিশেষজ্ঞ বিচারকমণ্ডলীর সামনে সরাসরি উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনটি বিভাগে পাঁচটি উদ্ভাবনী উদ্যোগকে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়। বিচারকমণ্ডলীতে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিভাগে প্রথম হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সানজিদা আফরিন ও তাসফিয়া তাহিয়াতের ‘রোদ্দুর এআই’। এটি স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো স্থানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রযুক্তি। একই বিভাগে দ্বিতীয় হয়েছে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) শেখ সাজিদুল ইসলাম ও লামিয়া তাবাসসুম নবনীর ‘সূর্য ঘাট’। এ উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে ডিজেলচালিত মাছ ধরার নৌকাকে রূপান্তর এবং ঘাটে চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জ্বালানি দক্ষতা বিভাগে প্রথম হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জারা তাসনুভা আলম ও হুমায়রা তাবাসসুম তুরাসার ‘টিপেকো ফ্রেমওয়ার্ক’। এটি ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার একটি মডেল। দ্বিতীয় হয়েছে বুয়েটের লাবিবা আনিকা ও খন্দকার রুহামা আমিনের ‘ছাদগ্রিড’। এতে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের ছাদকে কেন্দ্র করে নগর এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী যন্ত্রপাতির সমন্বিত ব্যবস্থাপনার ধারণা তুলে ধরা হয়েছে।

পেশাজীবী বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন মাল্টিফ্যাবস লিমিটেডের মো. টিপু সুলতান। শিল্পকারখানায় বয়লারের তাপ পুনরুদ্ধার এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে বর্জ্যপানির অম্লতা নিয়ন্ত্রণের সমন্বিত প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য তিনি এ পুরস্কার পেয়েছেন।

আরও পড়ুন

×